মহাদেবকে দেবতাদের দেবতা বলা হয়। মহাশিবরাত্রি তাঁর পূজা-অর্চনার বিশেষ দিন। এদিন সকাল থেকেই মন্দিরে মহাদেবের ভক্তদের সারি। তাঁর ভক্তরা নানাভাবে চেষ্টা করে তাঁর আশীর্বাদ লাভ করেন। এবার মহাশিবরাত্রি ব্রত উৎসব ২০২২ সালের ১লা মার্চ। আপনিও যদি এই উপলক্ষে মহাদেবের বিশেষ পূজা করতে যাচ্ছেন, তাহলে কিছু বিশেষ দিকে নজর দিতে ভুলবেন না। কিছু জিনিস মহাদেবের পুজোয় ব্যবহার করলে তিনি রুষ্ট হন। জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কী-
শঙ্খ
অজান্তেও মহাদেবের পূজায় শঙ্খ ব্যবহার করবেন না। না তো মহাদেবকে শঙ্খ দিয়ে অভিষেক করা হয়, আর না মহাদেবের পূজায় শঙ্খ বাজানো হয়। মনে করা হয়, মহাদেব শঙ্খচূড় নামে এক রাক্ষস নিধন করেছিলেন। সেই থেকে শঙ্খ সেই অসুরের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। যেহেতু শঙ্খচূর্ণ ছিলেন নারায়ণের ভক্ত, তাই নারায়ণের পূজায় শঙ্খ অবশ্যই বাজানো হয়, কিন্তু মহাদেবের পূজায় এর ব্যবহার নিষিদ্ধ।
কেতকি ফুল
মহাদেবের পুজোয় কখনই কেতকি ফুল দেওয়া উচিৎ নয়। মহাদেব কেতকি ফুলকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে তার পূজায় কেতকি ফুল কখনই গ্রহণ করা হবে না। এই ফুল নিবেদন করলে মহাদেব রাগ করেন। এ ছাড়া মহাদেবকে লাল রঙের ফুলও নিবেদন করা উচিৎ নয়।
তুলসী
তুলসী তার পূর্বজন্মে বৃন্দা ছিলেন। তার স্বামীর নাম জলন্ধর। জলন্ধর শিবের হাতে নিহত হলে, তুলসী মহাদেবের পূজায় নিজেকে জড়িত করতে অস্বীকার করেন। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত মহাদেবের পূজায় তুলসীর ব্যবহার হয় না।
নারকেলের জল
মহাদেবকে নারকেল নিবেদন করা হয়, কিন্তু নারকেল জল দেওয়া হয় না। এছাড়া মহাদেবের পূজায় ভাঙ্গা চাল দেওয়াও নিষিদ্ধ।
হলুদ ও রোলি
মহাদেবের পূজায় হলুদ ও রোলিও ব্যবহার করা হয় না। মহাদেব একজন বৈরাগী এবং তিনি তাঁর কপালে ছাই মাখেন। এ ছাড়া রোলির রং লাল। লাল রঙকে উত্তেজক বলে মনে করা হয়। যেহেতু শাস্ত্রে মহাদেবকে বিনাশক বলা হয়েছে, তাই তাঁর পূজায় রোলির ব্যবহার নিষিদ্ধ।
No comments:
Post a Comment