কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে বীরভূম সহিংসতার তদন্তভার নেয় সিবিআই। এর পর সিবিআই ক্রমাগত বিষয়টির গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এই পর্বে, এখন বীরভূমের সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের ময়নাতদন্ত করতে চায় সিবিআই। সিবিআই টিম বিশ্বাস করে যে, প্রাথমিক ময়না তদন্তের রিপোর্ট স্পষ্ট নয়। এখন সিবিআই আবার ময়নাতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে। উল্লেখ্য, তৃণমূল নেতাকে খুনের পর বীরভূম জেলার বগটুই গ্রামে যে সহিংসতা হয়েছিল তাতে ৯ জনের ঝলসে মৃত্যু হয়।
মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে বীরভূমের সহিংসতায় নিহতদের ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে সিবিআই সন্তুষ্ট নয়। পিএম রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগুনে পুড়ে মানুষ মারা গেছে। অথচ ঘরের দেওয়ালে রক্তের দাগ বলছে তাদের মারধর করা হয়েছে। সিবিআই-এর মতে, পোস্টমর্টেম রিপোর্টে এই বিষয়টিও উল্লেখ করা উচিৎ ছিল। সিবিআই দল বলছে, সবার আগে মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করতে হবে। তাদের সঙ্গে কী হয়েছে, তা পুরোপুরিভাবে আদালতে হাজির করা দরকার।
সিবিআই জানিয়েছে, মৃতদেহগুলির পরিচয়ও স্পষ্ট নয়। শুধু তাই নয়, ময়নাতদন্তের ভিডিও রেকর্ডিং এখনও হাতে পায়নি বলেও অভিযোগ তাদের। ময়নাতদন্তের ভিডিওগ্রাফি নিয়েও তাদের সন্দেহ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, খুব দ্রুত ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, একই ব্যক্তি সমস্ত মৃতদেহ শনাক্ত করেছিলেন। তবে কিসের ভিত্তিতে তিনি শনাক্ত করেছেন, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রামপুরহাট থানার সিসিটিভি ফুটেজ নেওয়া হয়। এছাড়াও রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিটিভি খতিয়ে দেখছে সিবিআই। ময়নাতদন্তের দিন এখানে জড়ো হওয়া ভিড়ের মধ্যে কারা জড়িত ছিল তাও খতিয়ে দেখছে তারা। এছাড়াও, বৃহস্পতিবার বীরভূম জেলা পুলিশ জেলার মাড়গ্রাম থেকে চারটি পিস্তল এবং ১৮ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে। এটি টিএমসি নেতা ভাদু শেখকে হত্যার জন্য জড়ো করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই হত্যা মামলায় (বীরভূম ভায়োলেন্স) পুলিশ ভাসান শেখ ও শেখ শফিককে মাড়গ্রাম ও নলহাটি থেকে গ্রেফতার করেছে। এ পর্যন্ত মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও মূল অভিযুক্ত আনারুল হুসেন সহ ছয়জনের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই।
বীরভূমের সহিংসতায় নিহত টিএমসি নেতা ভাদু শেখ একবার নয় দুবার পুলিশকে চিঠি দিয়ে সুরক্ষার দাবী জানিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে ভাদু তাকে হত্যার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছিল। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই চিঠিতে তিনি নিউটন শেখ নামে এক ব্যক্তির হুমকির কথা বলেছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের একজন নিউটন। হত্যার সময় সিসিটিভিতে তার ছবি ধরা পড়ে। এফআইআর-এ নিউটনের নামও রয়েছে।

No comments:
Post a Comment