ফোন করে এক যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ বসিরহাটে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতুড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি বসিরহাটের হাড়োয়া থানার গোপালপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের গোপালপুর দাস পাড়ার।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম স্বরূপ প্রামাণিক (২৮), বাঁকুড়ার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আসানসোলের গৃহবধূ চম্পা রুইদাসের সঙ্গে স্বরূপের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। একাধিকবার ফোনে কথা বলে সামাজিকতা, ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। চম্পার স্বামী গৌতম রুইদাস পেশায় চালক। যুবকের সঙ্গে স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার কথা জানাজানি হতেই তাদের মধ্যে কলহ শুরু হয়। ২৭ মে বসিরহাটের গোপালপুরের দাসপাড়ায় গৌতমের সঙ্গে বাবার বাড়িতে থাকতে যান চম্পা। আর সেখানে চম্পা, গৌতম, চম্পার বাবা খোকন সাহা ও দিদি চৈতালী সাহা যুবককে খুনের পরিকল্পনা করে।
রবিবার রাতে ওই গৃহবধূ ওই যুবককে ফোনে বাড়িতে আসতে বলেন। স্বরূপ আসতেই তারা তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে একাধিকবার আঘাত করে। এরপর একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে মৃতদেহ আম বাগানে ফেলে দেওয়া হয়।
বিষয়টি এলাকার মানুষের নজরে আসে। ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে হারোয়া থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ চম্পা, স্বামী গৌতম, খোকন সাহা ও শম্পাকে আটক করে। ধৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে খুনের কথা স্বীকার করেছে। তাদের সোমবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হবে। খুনের পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

No comments:
Post a Comment