জলপাইগুড়ি: সন্তানের প্রতি অপত্য স্নেহ, ৭২ ঘন্টা পরেও দেহ ছাড়তে রাজি নয় মা হাতি। ঘটনা বানারহাটের। উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে বানারহাটের আমবাড়ি চা বাগান এলাকায় একটি হস্তি শাবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ডলাইফ স্কোয়াডের বনকর্মীরা। কিন্তু হস্তি শাবকের দেহ উদ্ধার করতে গেলেও সেই দেহ উদ্ধার করতে পারেননি বনকর্মীরা। কেননা মা তার সন্তানের দেহ কোনও ভাবেই ছাড়তে চাইছে না। এমনকি ঘটনার ৩ দিন কেটে গেলেও মা নিজের সিদ্ধান্তে অনড়।
রবিবার দলের অন্যান্যরা আস্তে আস্তে জঙ্গলে ফেরত যাওয়া শুরু করলেও, মা হাতিটি শাবককে ছেড়ে যেতে নারাজ। এলাকার আশেপাশে যে কোনও দুর্ঘটনা এড়াতে বন দফতরের পক্ষ থেকে সচেতন করা হচ্ছে আশেপাশের শ্রমিক লাইনের বাসিন্দাদের।
শুক্রবার সকালে জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট ব্লকের আমবাড়ি চা বাগানে হস্তি শাবকের মৃত্যু হয়। এরপর রেড ব্যাংক ও ডায়না চা বাগান এলাকার একটি জঙ্গলে শাবকের দেহ তুলে নিয়ে আসে মা হাতি। এদিন মৃত সন্তানকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে মা হাতির তুলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য গোটা ডুয়ার্স বাসীর হৃদয়ে দাগ কাটে। এই ঘটনা বিরল বলে স্বীকার করে নেন বন কর্মীরাও। আর শুধু মা হাতি নয়, তার সঙ্গী প্রায় ৩৫ টি হাতি সেই মৃত শাবকটিকে ঘিরে থাকে।
তখন থেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বন দফতরের কর্মীরা। কিন্তু একসঙ্গে এতগুলো শোকাতুর হাতিকে কোনও ভাবেই ক্ষেপিয়ে তুলতে চাইছে না বন দফতর। সময় মত তারা এলাকা ছেড়ে চলে যাবে, এই আশাতেই রয়েছেন তারা। কারণ বলপূর্বক এই হাতির দলকে তাড়াতে গেলে অন্য রকম কিছু ঘটে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা বন দফতরের।
সেই কথা মাথায় রেখে তারা হাতির দলটির গতি বিধির ওপর নজর রাখছে। কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেই চেষ্টাতেই রয়েছেন তারা। কিন্তু ৭২ ঘণ্টা হতে চললেও মৃত শাবকটিকে উদ্ধার করতে না পারায় স্বাভাবিকভাবেই বিপাকে পড়েছেন বন কর্মীরাও। তবুও রোদ-ঝড়-বৃষ্টির মাথায় করেই নজর রাখছেন হাতির ওপরে।
জানা গিয়েছে, দলের বেশ কিছু হাতি জঙ্গলে ফিরে গেলেও, এখনও পর্যন্ত পাঁচ থেকে সাতটি হাতি এলাকা ছাড়তে নারাজ। একেবারে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে তারা।

No comments:
Post a Comment