উত্তর ২৪ পরগনা: নেশার আসরে চলল গুলি, জখম এক কিশোর। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার ভর দুপুরে গাইঘাটা থানার ঠাকুরনগর চিকন পাড়া এলাকায়। ঘটনায় আটক তিন, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র এবং বেশ কিছু কার্তুজ। আহত কিশোরের নাম বিদ্যুৎ ব্যাপারী(১৭)।
কিশোরের পেটে গুলি লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতাল নিয়ে আসা হয়। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়, বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত যুবকের সঙ্গীরা পুলিশি জেরায় জানান, একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়া গুলিবিদ্ধ যুবক বিদ্যুৎ ব্যাপারীর প্রতিবেশী বাল্য বন্ধু সুবীর হালদার(১৮)। তার বাড়ির ছাদে বসে সুবীর হালদার, বিদ্যুৎ ব্যাপারী এবং অপ্রতীম হালদার এই তিন বন্ধু নেশা করছিল। অপ্রতীম হালদারের কাছেই ছিল গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র।
নেশা করার সময় সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সিনেমার কায়দায় গুলি চালিয়ে দেব বলতে বলতেই অসাবধানতাবশত অপ্রতীম গুলি চালিয়ে দেয় বিদ্যুতের পেটে। গুলির শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন সুবীর হালদারের দাদা, সায়ন দ্বীপ হালদার(২০) বাড়ির ছাঁদে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পেটে হাত দিয়ে বসে রয়েছেন গুলিবিদ্ধ কিশোর বিদ্যুৎ ব্যাপারী। সেখান থেকে কিশোরকে উদ্ধার করে দুই ভাই সায়ন দ্বীপ এবং সুবীর তারাই হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল।
হাসপাতালে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহ হওয়ায় সুবীর হালদার ও সায়নদ্বীপ হালদারকে আটক করে। এরপরেই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে গোটা ঘটনা। ঘটনাস্থল থেকে অপ্রতীম পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে পুলিশ অপ্রতীম হালদারকেও আটক করে।
যেই আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি করা হয় সেই আগ্নেয়াস্ত্র সহ কয়েক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে, এমনই পুলিশ সূত্রের খবর। এই আগ্নেয়াস্ত্র তারা কোথা থেকে পেল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে গাইঘাটা থানার পুলিশ।প্রতিবেশীদের দাবী, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে তাদের জন্য উপযুক্ত শাস্তি হোক।

No comments:
Post a Comment