জম্মু-কাশ্মীরে ১২ ঘন্টার মধ্যে সন্ত্রাসীরা দুজনের প্রাণ নেয়। সন্ত্রাসীরা বদমামে দুই অ-কাশ্মীরিকে গুলি করে, যাতে বিহারের বাসিন্দা দিলখুশ কুমার মারা যায় এবং অন্য একজন আহত হয়। এর আগে কুলগামে সন্ত্রাসীরা এক ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে গুলি করে খুন করে।
জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর ফের একবার সেখান থেকে পালানোর ঘটনা দেখা যাচ্ছে। গভীর রাতে কাশ্মীর উপত্যকা থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মচারী জম্মু পৌঁছান। কাশ্মীরি পণ্ডিত ও কর্মচারীরা সরকারের কাছে সুরক্ষা দাবী করেন।
অন্যদিকে, কাশ্মীরের এই গুলির প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর। উপত্যকায় টার্গেট কিলিং-এর ঘটনা ক্রমবর্ধমান হওয়ার পর, কাশ্মীরি পন্ডিতদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত খীর ভবানী যাত্রা আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৮ জুন থেকে খীর ভবানী যাত্রার প্রস্তুতি শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর জন্য তোরজোড়ও চলছিল দ্রুত। মন্দির পরিষ্কারও করা হয়, কিন্তু মন্দির চত্বরে কর্মচারীদের খুনের প্রতিবাদে অবিরাম বিক্ষোভ চলতে থাকে। উল্লেখ্য, গত দুই বছরের কথা বাদ দিলে ১৯৯৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে চলছে এই খীর ভবানী যাত্রা। তবে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা বিশ্বাস করেন যে, এখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বর্তমানে, খীর ভবানী যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে, তবে অমরনাথ যাত্রাও ৩০ জুন থেকে অনুষ্ঠিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে ভক্তদের নিরাপত্তাই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই অমরনাথ যাত্রায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, সন্ত্রাসীরা বদগামে দুই অ-স্থানীয় শ্রমিককে লক্ষ্য করে। যার মধ্যে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শ্রমিক বিহারের বাসিন্দা এবং হামলায় আহত দ্বিতীয় শ্রমিক পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরের বাসিন্দা। উভয় অভিবাসী শ্রমিকই বদগাম জেলার চাদুরা গ্রামে একটি ইটের ভাটায় কাজ করতেন। পুলিশ জানায়, কাজ করার সময় সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার পরপরই, দুই শ্রমিককে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বিহারের দিলখুশ কুমারকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং অন্য শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে। এর আগে এদিন সকালে কুলগামে খুন হন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার বিজয় কুমার। বিজয় কুমার রাজস্থানের বাসিন্দা হলেও গত ৩ বছর ধরে কাশ্মীরে কর্মরত ছিলেন। মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কুলগামে একজন নিরপরাধকে হত্যার দ্বিতীয় ঘটনা এটি।

No comments:
Post a Comment