সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে চতুর্থী কাটালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহালয়া থেকে প্রতিনিয়ত পুজো উদ্বোধনের পর বৃহস্পতিবার চেতলার নবনীড় বৃদ্ধাশ্রমে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে আবাসিকদের শারদ শুভেচ্ছা জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গলা মেলালেন মহালয়ার গানে। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও ইন্দ্রনীল রায়।
এদিন কোনও পুজোর উদ্বোধন ছিল না। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও ইন্দ্রনীল রায়কে সঙ্গে নিয়ে চেতলার নবনীড় বৃদ্ধাশ্রমে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানকার আবাসিকদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান তিনি। তাঁদের হাতে পুজোর উপহার তুলে দেন।
এখানে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী, স্মরণ করেন নিজের মাকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা আমাদের ঘরের মা। আপনাদের দেখলে আমার মায়ের কথা মনে পড়ে। তার যত্ন এবং ভালোবাসা মনে পড়ে। আমি আমার মাকে হারিয়েছি, ফিরহাদ আর ইন্দ্রনীলেরও মা নেই, তাই প্রতি বছর পূজার আগে আপনাদের সাথে দেখা করতে আসি।'
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রার্থনা করি আপনারা সবাই সুস্থ থাকুন। তিনি আরও বলেন, 'আমি যখন এই আশ্রমে আসি, তখন সবার মুখ আগে দেখি। আগে চেনা মুখ খুঁজি। কোনও পরিচিত মুখ না দেখলে ভয়, শঙ্কা তৈরি হয়।' এর পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী সকলকে তাঁর বাড়ির কালী পূজায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিনে দেড় হাজারেরও বেশি পূজা মণ্ডপ উদ্বোধন করা হয়েছে। আমি বৃষ্টিতে ভিজে মণ্ডপে গিয়েছি, তাই আমার গলা ভারী হয়ে গিয়েছে।' এখানে চণ্ডীপাঠও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, শুধু দুর্গা পুজো নয়, বছরের বিভিন্ন সময়ে নবনীড়ের প্রবীণ আবাসিকদের খোঁজখবর নেন মমতা। গত বছর পঞ্চমীতে আলিপুর বডিগার্ড লাইন থেকে ভার্চুয়ালি একাধিক পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন মু্খ্যমন্ত্রী। এরপর গিয়েছিলেন নবনীড়ে। এমনকী, কোভিডের সময়ে এই বৃদ্ধাশ্রমের ভিতরেই অঞ্জলি দেওয়ারও ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন আবাসিকদের।

No comments:
Post a Comment