বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, রাজ্য সরকার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে (মনরেগা) ব্যাপক দুর্নীতি করেছে। ১৪ নভেম্বর, বিরোধী নেতা সিবিআই তদন্তের দাবীতে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ হলফনামার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যকে তলব করেছে।
কলকাতা হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ওই দিনই এ বিষয়ে শুনানি হবে। এর আগে শুভেন্দু অধিকারী, এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছিলেন।
শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে বাংলায় ১০০ দিনের কাজের মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তিনি দাবী করেন, কেন্দ্রীয় সরকার প্রকল্পের জন্য তহবিল বরাদ্দ করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই অর্থ ব্যয়ে কারচুপি করেছে। শুভেন্দু অধিকারী এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি চিঠি লিখে দাবী করেছিলেন, কোনও কাজ না করে অন্যত্র অর্থ ব্যয় করে, দুর্নীতি আড়াল করার জন্য মানুষকে মিথ্যা শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও দাবী করেন যে, মূল নথিতে অর্থাত্ মাস্টার রোলে বিশাল অসঙ্গতি রয়েছে। জাল জব কার্ড তৈরি করে তৃণমূল এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ জনগণের মধ্যে বিতরণ করেছে। টেন্ডার ছাড়া তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে দাবী করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন, তথ্য জালিয়াতির অভিযোগ এনে মামলাটি সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধও করেছিলেন। গোটা ঘটনায় সিএজির কাছে অডিটের দাবী জানিয়েছিলেন তিনি।
সোমবার এই মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও রাজ্যর কাছে হলফনামা তলব করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কেন্দ্রের আইনজীবী দাবী করেছেন যে, বরাদ্দকৃত তহবিলের অপব্যবহার সংবিধানের পরিপন্থী। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে, রাজ্য পক্ষের আইনজীবী বলেন, এই মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি দাবী করেন, রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিতে বিরোধী দলনেতা এই মামলা করেছেন।

No comments:
Post a Comment