জুতো দিয়েই হবে ফোন‌ চার্জ, মিলবে আরও সুবিধা! অভিনব সৃষ্টি নবমের পড়ুয়ার - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 3 May 2023

জুতো দিয়েই হবে ফোন‌ চার্জ, মিলবে আরও সুবিধা! অভিনব সৃষ্টি নবমের পড়ুয়ার


জুতো দিয়েই হবে ফোন‌ চার্জ, মিলবে আরও সুবিধা! অভিনব সৃষ্টি নবমের পড়ুয়ার





নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি, ০৩ মে: পায়ে হেঁটে উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ। আর সেই বিদ্যুৎ দিয়েই হবে মোবাইল চার্জ ও চলবে জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং থেকে ক্যামেরা। এমনি স্মার্ট সু তৈরি করেছে চন্দননগরের নবম শ্রেণির এক স্কুল পড়ুয়া। আগামী দিনে কোনও সংস্থার হাত ধরে সে আনতে চায় এই ধরনের উন্নত জুতো। যেটা সুরক্ষা করবে আট থেকে আশি সকলকে। আগামী দিনে সৌভিক চায় কোন জুতোর সংস্থা আর্থিক দিক দিয়ে স্মার্ট সু তৈরির জন্য তাকে সাহায্য করুক এবং এই ধরণের জুতো বাজারে আসুক।


স্মার্ট জুতো বানিয়ে নতুন দিশা দেখাতে চায় চন্দননগরের স্কুল পড়ুয়া সৌভিক শেঠ। সে চন্দননগর কানাইলাল স্কুলের ইংরেজি বিভাগের নবম শ্রেণীর ছাত্র। পড়াশোনার সাথে বিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রজেক্ট তৈরি করে সে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে অনেকটাই সফলতা পেয়েছে।স্কুলের শিক্ষক থেকে প্রতিবেশী একটি দাদাও সাহায্য করে সৌভিককে। কিন্তু কোনও কিছু করতে গেলে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় আর্থিক সমস্যা। পরিবারে সেভাবে নেই আর্থিক সচ্ছলতা। বাবা স্বরূপ শেঠ জুটমিল শ্রমিক। তবুও অদম্য ইচ্ছা শক্তির জোরে কাজ করে চলেছে কম বয়সী এই আবিষ্কারক।



প্রথম দিকে ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে ডোর বেল তৈরি করে। পরে ফেলে দেওয়া বর্জ্য পদার্থ জ্বালিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কীভাবে করা যায় তারই একটি ডেমো প্রজেক্ট তৈরি করে সে। বেশ কয়েকটি বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে পুরষ্কৃত হয়। বর্তমানে তার প্রজেক্ট 'স্মার্ট সু'। স্মার্ট সু সেভাবে বাজারে আসেনি। গবেষণার আকারে কয়েকটি কাজ হলেও, তা বাস্তবে রূপ পায়নি সেভাবে। 


এই পড়ুয়ার দাবী ঐ জুতো পরে হাঁটলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। আর সেই উৎপন্ন বিদ্যুৎ দিয়ে নানা রকম গ্যাজেট চার্জ করা সম্ভব হবে। এতে চার্জ করা যাবে মোবাইল থেকে পাওয়ার ব্যাঙ্ক। এছাড়াও এতে লাগানো যাবে গোপন ক্যামেরা ও নেভিগেশন সিস্টেম। এই স্মার্ট জুতো পড়লে শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। এছাড়াও ক্যামেরার মাধ্যমে গোপন রেকর্ড করা সম্ভব। বিশেষ করে যারা পর্বত আরোহী ও ভ্রমণপিপাসু তাদের জন্য এই স্মার্ট জুতো অনেকটাই কার্যকরী হবে এটি। ভ্রমণে বেরিয়ে অনেক সময় মোবাইল বা লাইট অথবা যেকোন ইলেকট্রনিক গ্যাজেট সহজেই চার্জ দেওয়া সম্ভব হবে। 


এই জুতো পরে হাঁটলেই চার্জ করা যাবে অনায়াসেই।জুতোর তলায় একটি ডিভাইস থাকবে। পায়ের চাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। একটি ২ হাজার mAh ব্যাটারি সহজেই চার্জ হবে। পড়ুয়ার দাবী, এক কিলোমিটার হাঁটলেই চার্চ হবে এই ব্যাটারি। আর সেখান থেকে একটি মোবাইল চার্জ বা অন্য কোন গ্যাজেট চার্জ করা যাবে। 


আপাতত এই স্মার্ট জুতোর সিস্টেম বাইরে থেকে করা আছে ঠিকই, একমাসের মধ্যে সমস্ত গ্যাজেটকে জুতোর সোলের মধ্যে ঢুকিয়ে তৈরি করা হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন একটি জুতো প্রস্তুত কারক সংস্থা, যারা আর্থিক ভাবে সাহায্য করবে সৌভিককে। সৌভিকের দাবী যদি কোন জুতো কম্পানি তাকে সাহায্য করে আরও নতুন কিছু করতে পারবে সে। তার এই চিন্তা-ভাবনা জুতোর দুনিয়ায় নতুন দিশা আনবে।


চন্দননগরের বারাসাত দে পাড়ার বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সৌভিক। আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নেই সেভাবে। পরিবারে সকলেই চায় ছেলে বড় হয়ে ভালো পড়াশোনা করে নিত্যনতুন আবিস্কার করুক। ক্লাস ফাইভ থেকে ইলেকট্রনিক জিনিসের প্রতি আগ্রহ। পড়াশোনা ছাড়া সারাক্ষণ এসব নিয়েই থাকে। জন্মদিন বা পুজোর জামা কাপড়ের বদলে বাবা-মায়ের কাছে আবদার করে ইলেকট্রনিক সরজাম কিনে দিতে। এতে উৎসাহ দেয় মা সোমা শেঠ। 


তিনি বলেন, 'স্মার্ট সু তৈরি করেছে সে। আগামী দিনে যদি কোনও সংস্থা এগিয়ে আসে, তাহলে আর্থিক ভাবে খুব উপকার হয়। আইটিআই নিয়ে পড়াশোনা করতে চায় সৌভিক। ওর এই সমস্ত জিনিস পত্রের দিয়ে আমি উৎসাহ দিই।'


স্মার্ট জুতো-র অভিনব চিন্তা-ভাবনা নিয়ে সৌভিক শেঠ বলেন, "নিজের ফুট স্টেপের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করছি। এর ফলে মোবাইল চার্জ সহ একাধিক গ্যাজেট চার্জ দেওয়া যাবে। জিপিএস থাকে এই জুতোয়। তাতে শিশু পাচার আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই জুতো কার্যকরী হবে। পরবর্তী কালে স্পাই ক্যামেরা লাগানো হবে এতে।এছাড়াও পর্বতারোহীদের ক্ষেত্রে এই জুতো উপকারী হবে।তবে এই ধরনণর জুতো করা খরচ সাপেক্ষে।'


সৌভিকের কথায়, "আমার চিন্তাভাবনার সঙ্গে যদি কোনও জুতো সংস্থা এগিয়ে আসে, তাহলে নতুন দিগন্ত আসবে। আগামী দিনে আইটিআই নিয়ে পড়াশোনা করে এই ধরণের নতুন কিছু আবিষ্কার করতে চাই।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad