"গলি গলিতে কত কেরালা স্টোরি?"- নাবালিকার নৃশংস খুন কাণ্ডে বিস্ফোরক বিজেপি নেতা
প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৯ মে: দিল্লীর শাহবাদ ডেইরি এলাকায়, এক ১৬ বছর বয়সী নাবালিকাকে প্রকাশ্য রাস্তায় ৩৬ বার ছুরিকাঘাত করে এবং পাথর দিয়ে পিষে নির্মমভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে। আর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ছবি 'দ্য কেরালা স্টোরি'-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন দিল্লীর বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রা।
কপিল মিশ্রা ট্যুইট করেছেন, “মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ড ঘটছে দিল্লীতে। আরেক নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে পিষে পিষে মারা হচ্ছে। অভিযুক্ত সাহিল, ছেলে সরফরাজ। গলি গলিতে কত কেরালা স্টোরি?" ট্যুইটে তিনি আরও লেখেন, 'শ্রদ্ধা এখনও বিচার পায়নি এবং জানি না আরও কত শ্রাদ্ধ প্রতিদিন এই নৃশংসতার শিকার হচ্ছে।'
তথ্যমতে, রবিবার সন্ধ্যায় শাহবাদ ডেইরি থানা এলাকায় এক নাবালিকাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে ও পাথর দিয়ে পিষে নির্মমভাবে খুনের অভিযোগ ওঠে তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম ২০ বছর বয়সী সাহিল, যে খুনের পর থেকেই পলাতক। মৃত নাবালিকা শাহবাদ ডেইরি জেজে কলোনির বাসিন্দা। এই খুনের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
দিল্লী পুলিশ জানিয়েছে যে, সাহিল এবং মৃত মেয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, তবে রবিবার তাদের মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল। সন্ধ্যায় নাবালিকা একটি জন্মদিনে যোগ দিতে যাচ্ছিল, পথে সাহিল তাকে বাধা দেয় এবং ছুরি দিয়ে কয়েকবার কোপায় এবং পরে তাকে পাথর দিয়ে পিষে খুন করে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে কতবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে যে, নির্যাতিতার বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে শাহবাদ ডেইরি থানায় আইপিসি-র ধারা ৩০২ এর আওতায় এফআইআর দায়ের করে সাহিলের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
দিল্লী পুলিশের আধিকারিক সুমন নালওয়া বলেছেন যে, গতকাল শাহবাদ ডেইরিতে ১৬ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে তার প্রেমিক ছুরিকাঘাতে খুনের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছিল। দিল্লী পুলিশের একাধিক দল বিষয়টি তদন্ত করছে। অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে, মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী শ্রদ্ধা ওয়াকারকে (১৮ মে, ২০২২) দিল্লীর মেহরাউলিতে তার লিভ-ইন পার্টনার আফতাবের (২৮) বিরুদ্ধে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। শ্রদ্ধাকে ৩৫ টুকরো করে কেটে জঙ্গল সহ বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্ত দেহের টুকরো রাখার জন্য ৩০০ লিটারের একটি ফ্রিজ কিনে এবং মাঝরাতে ওই টুকরোগুলো ফেলে দিতেন। নারকো টেস্টে শ্রদ্ধাকে খুনের কথা স্বীকার করেছে আফতাব।
আফতাব এবং শ্রদ্ধা একটি অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে একে অপরের সংস্পর্শে আসেন এবং পরে মুম্বাইয়ের একটি কল সেন্টারে কাজ শুরু করেন, যেখানে তারা প্রেমে পড়েন। শ্রদ্ধার পরিবার যখন তাদের ভিন্ন ধর্মের কারণে তাদের সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিল, তারা দুজনেই গত বছরের মে মাসে দক্ষিণ দিল্লীর মেহরাউলিতে চলে আসেন। তদন্তে আফতাব পুলিশকে জানিয়েছে, বিয়ে নিয়ে ঝগড়ার জেরে শ্রদ্ধাকে খুন করেছে সে। তার শরীরকে টুকরো টুকরো করার ধারণাটি এসেছে আমেরিকার একটি টেলিভিশন সিরিজ থেকে। শরীরের কোন অংশটি সবচেয়ে বেশি পচতে শুরু করবে তার উপর ভিত্তি করে সে এই টুকরোগুলি নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা করেছিল।


No comments:
Post a Comment