হাড়হিম কাণ্ড! নাবালিকাকে মাঝ রাস্তায় ৩৬ বার ছুরিকাঘাত, পাথর দিয়ে পিষে খুন
প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৯ মে: রাস্তায় প্রকাশ্যে নাবালিকাকে ৩৬ বার ছুরিকাঘাত, সিসিটিভি বন্দি হাড়হিম দৃশ্য। নৃশংস এই ঘটনা দিল্লীর শাহবাদ ডেইরি এলাকার। খুনের অভিযোগ উঠেছে সাহিল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানায়, সাহিল ও নাবালিকা বন্ধু হলেও রবিবার কোনও একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সাক্ষী, বয়স ১৬ বছর।
পুলিশ জানায়, নাবালিকা যখন তার বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে যাচ্ছিল, তখন মাঝ রাস্তায় সাহিল তাকে থামিয়ে ছুরি দিয়ে বেশ কয়েকবার আক্রমণ করে, তারপর পাথর দিয়ে তার ওপর হামলা করে। বর্তমানে অভিযুক্ত সাহিল পলাতক রয়েছে। তার খোঁজে পুলিশের টিম অভিযান চালাচ্ছে।
ভাইরাল হওয়া এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত সাহিল মেয়েটিকে ধরে প্রথমে ছুরি দিয়ে ৩৬ বার আক্রমণ করে। এ সময় পাশ দিয়ে লোকজন যাওয়া-আসা করলেও সাহিলকে কেউ আটকানোর চেষ্টা করে না। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, নাবালিকাকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করার পর সাহিল, পাশে রাখা পাথর তুলে নিয়ে তাকে পিষে ফেলার দৃশ্য দেখেও পাশ কাটিয়ে সবাই নীরবে চলে যায়। এই ভাইরাল ভিডিওর পর ফের প্রশ্ন উঠেছে দিল্লীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে।
ঘটনাটি ঘটেছে শাহবাদ ডেইরি এলাকায়। মুখবিরের কাছ থেকে পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেই পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লোকজনের কাছে খোঁজ খবর নেয়। ওই নাবালিকা ই-৩৬ জেডজে কলোনীর বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সাহিল ও সাক্ষীর সম্পর্ক ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সাহিলের একদিন আগে ওই নাবালিকার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল। এ নিয়ে সাহিল রেগে যায় এবং তাকে হুমকিও দেয়। যদিও নাবালিকা তার হুমকি উপেক্ষা করে। গত রবিবার রাতে সে তার বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে যাওয়ার সময় রাস্তায় সাহিল তাকে থামায়। বাধা দিলে সে ছুরি ও পাথর নিয়ে মেয়েটির ওপর হামলা চালায়। বর্তমানে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এই ঘটনার বিষয়ে, দিল্লী মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বাতি মালিওয়ালও ট্যুইট করেছেন যে, "দিল্লীর শাহাবাদ ডেইরিতে, একটি নাবালিকা নিরীহ পুতুলকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপরে একটি পাথর দিয়ে পিষে দেওয়া হয়। দিল্লীতে দুষ্কৃতীদের মনোবল খুব ঊর্ধে। পুলিশকে নোটিশ জারি করা হচ্ছে। সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এত বছরের ক্যারিয়ারে এর চেয়ে ভয়ংকর কিছু দেখিনি।

No comments:
Post a Comment