শিশুকে সুস্থ রাখতে পান করান বুকের দুধ
প্রেসকার্ড নিউজ লাইফ স্টাইল ডেস্ক,২৮ অগাস্ট : সম্প্রতি একটি সপ্তাহ বিশ্বব্যাপী বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ হিসাবে পালিত হল । এর উদ্দেশ্য হল বুকের দুধ পান করানোর বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা। যাতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুর পরিপূর্ণ পুষ্টির জন্য মায়ের দুধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও বুকের দুধ পান করা খুবই উপকারী। এর মাধ্যমে মা ক্যান্সারের মতো বিপজ্জনক রোগ থেকে বাঁচতে পারেন। মায়ের দুধে ৪০০ ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুধে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন এবং অ্যান্টিবডি রয়েছে যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য খুবই ভালো।
দিল্লির গাইনোকোলজিস্ট ডাঃ চঞ্চল শর্মা বলেন যে মায়ের দুধে পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এটি শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য খুবই উপকারী। মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও বুকের দুধ পান করানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি মায়ের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে চর্বি কমাতে সাহায্য করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। এতে মায়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং শিশুও সময়মতো পরিপূর্ণ পুষ্টি পায়। চলুন তাহলে জেনে নেই শিশুর জন্মের সঙ্গে সাথে কী বুকের দুধ পান করানো উচিৎ-
ডাঃ চঞ্চল শর্মা বলেন, নবজাতক শিশুকে জন্মের পরপরই বুকের দুধ পান করাতে হবে। এতে অনেক উপকার হয়। বুকের দুধ পান করানোর সময়, যে দিক থেকে শিশুকে দুধ পান করাচ্ছেন সেই দিকেই হাত দিয়ে শিশুর মেরুদণ্ড, ঘাড় এবং পিঠের নীচের অংশটিকে সমর্থন করতে থাকুন। এটি বুকের দুধ পান করানোর সর্বোত্তম উপায়।
শিশুর ক্ষিদে অনুযায়ী তাকে দুধ পান করাতে হবে। শিশু যদি উচ্চস্বরে কাঁদে তবে তা ক্ষিদের লক্ষণও হতে পারে। তখন অবিলম্বে শিশুকে বুকের দুধ পান করানো শুরু করা উচিৎ। বুকের দুধ পান করানোর সময় মাকে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এ কারণে দুধে সব ধরনের পুষ্টি বজায় থাকে এবং শিশুর অনেক উপকার হয়। বুকের দুধ পান করানোর পর মাকে তার স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে।
ডাঃ চঞ্চল বলেছেন যে একজন মহিলার বুকের দুধ পান করানোর সময় বা পরে অ্যালকোহল এবং ধূমপান করা একদম উচিৎ নয়। এতে অনেক ক্ষতি হতে পারে।এমনকি এটি দুধের মানও নষ্ট করতে পারে। এ সময় পরিচ্ছন্নতারও খেয়াল রাখতে হবে। নোংরা জায়গায় কখনই শিশুকে বুকের দুধ পান করাবেন না।

No comments:
Post a Comment