চাঁদ-সূর্যের পর এবার 'শুক্র'-র পালা, বড় তথ্য দিলেন ইসরো প্রধান
প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর: চাঁদ এবং সূর্যের পরে, ইসরো (ISRO)-র নজর এবারে শুক্রের দিকে। শুক্র গ্রহে মহাকাশযান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরো। তারা এই মিশনের জন্য পেলোড তৈরি করেছে এবং মিশন শুক্র শীঘ্রই শুরু হতে পারে। ইসরো প্রধান এস সোমনাথ বলেছেন যে, 'ধারণা পর্যায়ে আমাদের অনেক মিশন রয়েছে। শুক্র গ্রহের একটি মিশন ইতিমধ্যেই রূপ নিয়েছে। এর জন্য পেলোড ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। শুক্র একটি আকর্ষণীয় গ্রহ। শুক্রেরও একটি বায়ুমণ্ডল রয়েছে। এর বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত ঘন। বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পৃথিবীর চেয়ে ১০০ গুণ বেশি এবং অ্যাসিডে পূর্ণ।'
শুক্র গ্রহ নিয়ে কেন এত আগ্রহ ইসরোর? কেন মিশন ভেনাস উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরো? প্রকৃতপক্ষে, শুক্র পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী। শুক্রকে প্রায়ই পৃথিবীর যমজ বলা হয়। পৃথিবী এবং শুক্রর আকার ও ঘনত্ব একই রকম। শুক্রের বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৯০ গুণ ঘন।
এছাড়াও শুক্রের বায়ুমণ্ডলের রসায়নের অধ্যয়ন - শুক্রের গঠনগত বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা - শুক্রের উপর সূর্য রশ্মির প্রভাবের অধ্যয়ন - শুক্রে উপস্থিত অ্যাসিড নিয়ে গবেষণাও এর উদ্দেশ্য।
শুক্র গ্রহে শুধু ইসরোই নয়, বিশ্বের আরও কিছু মহাকাশ সংস্থা এটি নিয়ে গবেষণা করতে চায়। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ২০০৬ সালে মিশন ভেনাস চালু করেছিল। জাপানের আকাতসুকি ভেনাস ক্লাইমেট অরবিটার ২০১৬ সাল থেকে প্রদক্ষিণ করছে। নাসার পার্কার সোলার প্রোব শুক্র গ্রহের চারপাশে বেশ কয়েকটি চক্কর কেটেছে।
মিশন শুক্র ইসরোর জন্য সহজ নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুক্র গ্রহকে জটিল মনে করা হয়। আসলে শুক্রের পৃষ্ঠের গঠনও সঠিকভাবে জানা যায় না। এখানে ঘন মেঘ রয়েছে মাত্র ৬০ কিলোমিটার উচ্চতায়। একে সালফিউরিক অ্যাসিড বলে। গ্রহটি ধীরে ধীরে ঘোরে, কিন্তু বাতাস সেখানে দ্রুত প্রবাহিত হয়। শুক্রকে উষ্ণতম গ্রহ হিসাবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এটি সূর্যের সবচেয়ে কাছে।

No comments:
Post a Comment