ফলস প্রেগনেন্সি নিয়ে বেসামাল সরকারি হাসপাতাল
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা: রোগের নাম সুডো প্রেগনেন্সি অর্থাৎ ফলস প্রেগনেন্সি। আর এই ফলস প্রেগনেন্সি নিয়েই কার্যত নাস্তানাবুদ উত্তর ২৪ পরগনারর বারাসত হাসপাতাল।
বারাসত অশ্বীনি পল্লীর রুথ মিত্রের দাবী, তিনি গর্ভবতী ছিলেন। নিয়ম মাফিক গর্ভবস্থা থাকাকালীন সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেন। গত ১৭ ই সেপ্টেম্বর পেটে ব্যথা নিয়ে বারাসত হাসপাতালে মেটারনিটি ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হন তিনি। এরপর ১৮ তারিখ তার সিজার হয় বলে দাবী করেন রুথ মিত্র। অথচ সিজারের পর তার সন্তান নেই বলে জানায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।
রুথ মিত্র এবং তার স্বামী অভিষেক মিত্রের অভিযোগ, তাদের সন্তান চুরি হয়ে গেছে। হাসপাতালের কোনও অশুভ চক্র এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। এমনকি তাদের সমস্ত তথ্য প্রমাণও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজের হেফাজতে রেখে দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বারাসাত থানায় এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
মিত্র পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এটি সুডো প্রেগনেন্সি। এই দম্পতি মানসিক রোগের শিকার। তাদের দাবী সিজার নয় লাপ্রোস্কপি করা হয়েছিল। রোগীর পেট ব্যথার উপসর্গের জন্যে, পেট কোনও ভ্রূণের চিহ্ন ছিল না।
প্রখ্যাত গাইনোকোলজিস্ট ডাঃ রত্না চ্যাটার্জীর মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ্যাত্বের কারণে এই রোগের শিকার হতে পারেন মহিলারা। সুডো প্রেগনেন্সি রোগে আক্রান্ত মহিলারা গর্ভকালীন সমস্ত রকম উপসর্গ অনুভব করেন কিন্তু আসলে তা ভ্রম। তবে হাসপাতালের বিষয় নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।
মিত্র দম্পতি প্রথম সন্তান গর্ভাবস্থায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর থেকেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন। তাঁরা সুডো প্রেগনেন্সির শিকার নাকি সত্যিই কোনও অন্য ঘটনা! তারই তদন্ত করছে বারাসত থানা।

No comments:
Post a Comment