বাঙালি বধূর সাজে মা দুর্গা, বিশেষ চমক 'আনন্দনগর মহিলা সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটি'র
নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি, ১১ অক্টোবর: অপেক্ষার আর কিছুদিনের, এরপরেই দুর্গা পুজোর আনন্দে মেতে উঠবেন ছোট থেকে বড় সকলেই। পুজো ঘিরে সেজে উঠছে প্যান্ডেলগুলো, এমনই একটি পুজো হল জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির 'আনন্দনগর মহিলা সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটির পুজো। মহিলা পরিচালিত এই পুজো এবারে সপ্তম বর্ষে পড়ল।
অপরূপ সৌন্দর্যের এক কাল্পনিক মন্দির ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে আনন্দনগর মহিলা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির তরফে। ২০১৭ সালের স্থাপিত আনন্দনগর মহিলা সার্বজনীন দুর্গা পুজো কমিটির মণ্ডপ কাঠ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। মণ্ডপ জুড়ে থাকবে কাঠের নানা কারুকার্য। এখানে মায়ের যে মূর্তি তৈরি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ বাঙালি বধূর সাজে। প্রদীপ জ্বালিয়ে, শঙ্খ ধ্বনিতে মহিলারা সকলে এক রকম কাপড় পড়ে মাকে পুজো মণ্ডপে নিয়ে আসবেন। নবমীতে সারাদিন ধরে চলবে প্রসাদ বিতরণ। মণ্ডপের সামনে প্রতিদিন হবে আরতি।
আনন্দনগরের বেশ কিছু মহিলা একত্রিত হয়ে এই পুজো পরিচালনা করেন। বিভিন্ন বয়সী মহিলারা একত্রিত হয়ে চাঁদা তোলা থেকে শুরু করে প্রতিমা নিয়ে আসা ও বিসর্জন ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন। পুজো কমিটির মহিলারা বলেন, 'সারা বছর আমরা বাড়ির কাজে ব্যস্ত থাকি। পুজোর কদিন আমরা মহিলারা বাড়ির কাজের পাশাপাশি পুজো মণ্ডপে এসে সময় দেই, আনন্দ, আড্ডা হইহুল্লোড় করি।'
আনন্দনগর মহিলা সর্বজনীন দুর্গা পুজো কমিটি সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য পঞ্চায়েত সমিতির থেকে করোনার সময় পুরষ্কার পেয়েছিল। এ বছরেও মহিলা পরিচালিত তাদের এই পুজো ময়নাগুড়ি বাসীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবে বলে তারা জানিয়েছে। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, এবছরে তাদের মণ্ডপ, মায়ের মূর্তি ও আলো ময়নাগুড়ির শিল্পীরা তৈরি করছেন। পুজো মণ্ডপে নানা সামাজিক সচেতনতার বিষয়ও ফুটিয়ে তোলা হবে।
এই কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন প্রীতিকণা ভট্টাচার্য, সহ-সভাপতি অঞ্জনা সাহা ও পাপিয়া দাস। সম্পাদিকা রিতা মুখার্জী। সহ-সম্পাদিকা রিম্পা বৈদ্য, রমা দত্ত ও বৈশাখী দাস। কোষাধক্ষ্য সুচন্দ্রা সরকার। সহ কোষাধক্ষ্য বিউটি সরকার ও সান্তনা সরকার। হিসাবরক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন ঝুলন দত্ত ও শম্পা বর্মন।
পুজো কমিটির সম্পাদিকা রিতা মুখার্জী, সভাপতি প্রীতিকণা ভট্টাচার্য্য, কোষাধ্যক্ষ সুচন্দ্রা সরকার বলেন, 'আমাদের এখানে প্রচুর আনন্দ হয়। আমাদের এলাকার প্রচুর লোকজনেরা অঞ্জলি দিতে আসেন। এলাকার মহিলারা পুজোর কদিন একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগ করে নেই। আমরা এক কাল্পনিক মণ্ডপ তৈরি করছি।' পূজা কমিটির সভাপতি সভাপতি প্রীতিকণা ভট্টাচার্য জানান, এই পূজা অতি নিষ্ঠার সাথে হয়ে থাকে।

No comments:
Post a Comment