ইসরায়েলের অবরোধে গাজার হাসপাতালে জ্বালানি সংকট! হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৫ অক্টোবর : হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে গাজার চিকিৎসকরা বলেছেন যে হাসপাতালে জ্বালানি ও মৌলিক জিনিসের অভাবে হাজার হাজার মানুষ মারা যেতে পারে। গত সপ্তাহে হামাসের হামলার পর উত্তর গাজায় প্রতিশোধ নিচ্ছে ইসরাইল। সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, "এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২,৩২৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যা ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধের চেয়েও বেশি। সেই সময় সেই যুদ্ধ ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল।"
হাজার হাজার রোগীর জীবন বিপন্ন
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার হাসপাতালে আগামী দুই দিনের মধ্যে জেনারেটরের জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে, হাজার হাজার রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। হামাসের হামলার পর ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল। এ কারণে গাজার একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি জ্বালানির অভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
কী বললেন গাজার চিকিৎসকরা?
দক্ষিণ গাজার একটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, "নাসের হাসপাতালের আইসিইউ ভর্তি, বেশিরভাগই তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়ে। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত শত শত মানুষ চিকিৎসা ও জ্বালানির জন্য হাসপাতালে এসেছেন। "
চিকিৎসকেরা আরও বলেন, "আইসিইউতে ৩৫ জন রোগী ভেন্টিলেটরে এবং ৬০ জন রোগী ডায়ালাইসিসে আছেন। জ্বালানি শেষ হলে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে। বিদ্যুৎ কেটে গেলে এই সব রোগীর প্রাণ বিপদে আছে।"
উত্তর গাজা স্ট্রিপের একটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেছেন যে ইসরায়েলের সতর্কতা সত্ত্বেও তিনি হাসপাতালটি খালি করতে পারেননি। তিনি বলেন, "সাত নবজাতক আইসিইউতে ভেন্টিলেটরে রয়েছে। আমরা হাসপাতাল খালি করলে অনেক রোগী মারা যাবে।"
ইসরাইল অবরোধ করেছে
ইসরাইলি অবরোধের কারণে গাজায় জল ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে না। জলের অভাবে সেখানকার মানুষ কুয়োর নোংরা জল পান করতে বাধ্য হচ্ছে।
এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উত্তর গাজার ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে দক্ষিণ দিকে সরে যেতে সতর্ক করেছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, তারা হামাস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানের আগে সেখান থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে চায়। ইসরায়েল বলেছে, এই অবরোধ তখনই তুলে নেওয়া হবে, যখন হামাসের হাতে বন্দি মানুষ ফিরে আসবে।

No comments:
Post a Comment