'২৪ ঘন্টার মধ্যে উত্তর গাজা খালি করুন', ইসরায়েলের নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন জাতিসংঘের
প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৩ অক্টোবর : আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হামাসের হামলার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরছে ইসরাইল। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল সফর করেন। এ সময় ইসরায়েল দাবী করে যে তারা এন্টনি ব্লিঙ্কেনকে এমন কিছু ছবি দেখিয়েছে যাতে শিশুরা গুলিবিদ্ধ, তাদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে।
শনিবার হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা এলাকায় লাগাতার বিমান হামলা চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি ইসরায়েল জাতিসংঘকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বলেছে। জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এই এলাকায় ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস করে। এটি গাজার জনসংখ্যার অর্ধেক। ইসরায়েলের এই নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ বলেছে, ইসরাইল যে ১১ লাখ মানুষকে এলাকা ছেড়ে যেতে বলছে তারা গাজার মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ। জাতিসংঘ বলেছে, "এ ধরনের আন্দোলন অসম্ভব। এটি করা হলে মানবতাকে আটকে রাখতে হবে এবং এর মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।" উল্লেখ্য, ইসরাইল গাজা এলাকায় প্রায় তিন লাখ রিজার্ভ ফোর্স মোতায়েন করেছে। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিমান হামলা ছাড়াও স্থল অভিযানেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। বিবিসি জানায়, গাজা সীমান্তে ট্যাংক ও আর্টিলারি মোতায়েন করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত উত্তর গাজা খালি করার জন্য ইসরায়েলের নির্দেশে জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়ায় আপত্তি প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান বলেছেন, জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া 'লজ্জাজনক'। তিনি বলেন, "ইসরায়েল প্রথমে গাজার জনগণকে সতর্ক করতে চায় এবং হামাসের বিরুদ্ধে অভিযানে নির্দোষ মৃত্যু চায় না।"
উল্লেখ্য, হামাসের হামলায় ১৩০০ এরও বেশি ইসরায়েলি মানুষ মারা গেছে, এবং গাজায় ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপে ১৫০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজায় ৬ দিনে ২২ হাজারের বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে। ১০টি হাসপাতাল এবং ৪৮টি স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজার ৩ লাখের বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

No comments:
Post a Comment