৯ বছরের শিশুকে ধ-র্ষণ করে খুন ১৩ বছরের দাদার! অপরাধ ঢাকতে সাহায্য মা-সহ দুই দিদির
প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৮ জুলাই: নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠল তারই দাদার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দাদার বয়স ১৩ বছর। শুধু তাই নয়, মা ও দুই দিদির সহযোগিতায় সে এই কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল বলেও অভিযোগ। শিউড়ে ওঠার মত ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের রেওয়ার জাওয়া থানা এলাকায়। ঘটনাটি চলতি বছরের এপ্রিল মাসের। পুলিশ ২৬ জুলাই শুক্রবার রাতে মামলাটি প্রকাশ করে। নাবালক ভাই ও বোনকে একটি কিশোর হোমে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মা ও প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইলে পর্ণ দেখে ১৩ বছর বয়সী দাদা তার নয় বছর বয়সী বোনকে ধর্ষণ ও খুন করে। মধ্যপ্রদেশ পুলিশের একজন আধিকারিক জানান, কিশোরের মা এবং ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই দিদি এই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সাহায্য করে। পুলিশ ৫০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ, অভিযুক্তদের কঠিন জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে মৃত শিশুর ভাই, তাদের মা ও বোনদের আটক করে। পরে তাদের গ্ৰেফতার করা হয়।
২৪ এপ্রিল, মধ্যপ্রদেশ পুলিশ খবর পায় যে, রাজ্যের রেওয়া জেলায় একটি বাড়ির উঠানে একটি মেয়ের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণ ও খুনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার পরে তদন্ত শুরু হয়।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর সাথে এই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে, রেওয়ার পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট (এসপি), বিবেক সিং বলেছেন, "২৪ এপ্রিল জাওয়া থানা এলাকায় নয় বছর বয়সী একটি মেয়েকে ধর্ষণ করা হয় এবং তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। এর পরে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে দেয়।” তিনি আরও বলেন, "নির্যাতিতার দেহ তাঁর ঘরের উঠোন থেকে উদ্ধার করা হয়, যেখানে ঘটনার সময় সে ঘুমিয়েছিল।"
পুলিশের মতে, পরিবারের সদস্যদের কড়া জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, নির্যাতিতার ১৩ বছর বয়সী ভাই রাতে তার পাশে ঘুমিয়েছিল। জানা যায়, মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও দেখে ওই কিশোর তার যৌন-শোষন করে।
তদন্তে জানা যায়, নাবালিকা মেয়েটি বাবাকে এই কথা বলার হুমকি দিলে ছেলেটি তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে এবং পরে তার মাকে জাগিয়ে সব কথা জানায়। তারা দেখতে পান যে, ছোট মেয়ের দেহে তখনও প্রাণ রয়েছে। তা দেখে অভিযুক্ত আবার তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে।
তদন্তে আরও জানা গেছে যে, অভিযুক্তের দুই বড় বোনও ঘটনার পরে জেগে উঠেছিল এবং তদন্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পুলিশকে জানানোর আগে তাদের বিছানার স্থান পরিবর্তন করে। তবে, কড়া জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
রেওয়া এসপি সংবাদমাধ্যমকে আরও জানান যে, নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে বলেছিল, একটি বিষাক্ত পোকার কামড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে জেরা করতে গেলে পরিবারের সদস্যরা রাতের ঘটনাবলী বদলে ফেলেন। রাতে বোনের পাশে যে দাদা শুয়েছিল, সে কথা পুলিশকে জানানো হয়নি। দাবী করা হয়, বাইরে থেকে ঢুকে কেউ এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে, তদন্তে জানা গেছে, বাড়িতে কারও প্রবেশের কোনও চিহ্ন নেই এবং পরিবারের সদস্যরাও রাতে কোনও শব্দ শোনার কথাও অস্বীকার করেন।
এসপি বলেন, "প্রযুক্তিগত প্রমাণ সংগ্রহ এবং ৫০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে, পুলিশ পরিবারের সদস্যদের বিবৃতিতে বারবার পরিবর্তন পায়। সন্দেহের ভিত্তিতে, তাদের কঠিন জিজ্ঞাসাবাদ করা তারা ভেঙে পড়েন এবং নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নেয়।"

No comments:
Post a Comment