প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৩ অক্টোবর: শনিবার রাতে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হয়েছেন মহারাষ্ট্রের এনসিপি (অজিত পাওয়ার গোষ্ঠী) নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকী। এই খুনে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাং যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। মুম্বাই পুলিশও এই দিক থেকে তদন্ত করছিল। এবারে মনে করা হচ্ছে, এই খুনের দায় স্বীকার করে নিয়েছে বিষ্ণোই গ্যাং। রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হচ্ছে, যেখানে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং বাবা সিদ্দিকী খুনে দায় নিয়েছে। এই পোস্টে সালমান খান এবং দাউদ গ্যাংয়ের কথাও বলা হয়েছে। এই পোস্টটি সম্পর্কে মুম্বাই পুলিশ বলেছে যে, 'আমরা ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি দেখেছি এবং আমরা এর সত্যতা তদন্ত করছি।'
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই পোস্টে লেখা হয়েছে, "সালমান খান, আমরা এই যুদ্ধ চাইনি, কিন্তু আপনি আমাদের ভাইয়ের ক্ষতি করিয়েছেন... আজ যে বাবা সিদ্দিকীর শালীনতার পুল বাঁধছেন, তিনি এক সময় দাউদের সাথে মকোকা অ্যাক্ট (MCOCA ACT)-এ ছিলেন। তাঁর (বাবা সিদ্দিকীর) মৃত্যুর কারণ ছিল অনুজ থাপান এবং দাউদকে বলিউড, রাজনীতি, সম্পত্তির লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত করা। আমাদের কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই। কিন্তু যে সালমান খান আর দাউদ গ্যাংয়ের সাহায্য করবে, তিনি যেন তাঁর হিসাবপত্র করে রাখেন। আমাদের কোনও ভাইকে যে কেউ মারবে তো আমরা এর প্রতিক্রিয়া নিশ্চয়ই দেব। আমরা প্রথমেই মারিনি।" (ভাইরাল পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি প্রেসকার্ড নিউজ।)
খুনের কথা স্বীকার করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে হ্যান্ডেল ব্যবহার করা হয়েছে তা আগে কখনও লরেন্স গ্যাং ব্যবহার করেনি। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের প্যাটার্ন রয়েছে যে, আনমোল বিষ্ণোই, গোল্ডি ব্রার বা গ্যাংয়ের কোনও মজবুত সদস্য এই ধরণের পোস্ট করে দায়িত্ব নেয়। এটি তদন্তকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার অপকর্মও হতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমশ ভাইরাল হচ্ছে এই পোস্ট। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এই পোস্টের সত্যতা নিয়ে তদন্ত চলছে।
জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) নেতা এবং মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকী শনিবার (১২ অক্টোবর ২০২৪) রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ইস্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। নির্মল নগরের কোলগেট গ্রাউন্ডের কাছে বাবা সিদ্দিকীর ছেলে ও বিধায়ক জিশান সিদ্দিকীর অফিসের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরপরই দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে তিন বন্দুকধারী জড়িত ছিল। তিনজনের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে - গুরমাইল বালজিৎ সিং (২৩), হরিয়ানার এবং ধর্মরাজ কাশ্যপ (১৯), উত্তরপ্রদেশের এবং তৃতীয় জনকে শিব কুমার গৌতম হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তিনিও ইউপি থেকে। একজন চতুর্থ ব্যক্তি, যাকে হ্যান্ডলার বলে মনে করা হচ্ছে, তিনিও পলাতক রয়েছেন।

No comments:
Post a Comment