নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা, ১৭ অক্টোবর: দুর্গা পুজোর পরেই দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় ব্রতী হন আপামর বাঙালি। কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো আর সব জায়গায় একদিন হলেও মালদা শহরের কোঠাবাড়ি রায় পরিবারে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো চলে পাঁচ দিন ধরে। রীতি মেনে লক্ষ্মী ছাড়াও একাধিক দেবদেবী পূজিত হন এখানে। এবারে রায় পরিবারের পুজো ৮৫ বছরে পড়ল। নিয়ম মেনে পুজোর আগের দিন স্থানীয় তিনশো বিশ মোড়ে বসে মেলার আসর। পুজোর প্রথমদিন রাতভোর অনুষ্ঠিত হয় লক্ষ্মী পুজো।
পাঁচ দিনের এই লক্ষ্মী পুজো হয় পুরনো ঠাকুর দালানে।আজও নিয়মনিষ্ঠা সহকারে পুজো করে আসছেন রায় পরিবারের বর্তমান প্রজন্ম। এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ হল একটি চালার মধ্যেই দেবী লক্ষ্মী-সহ অন্যান্য দেবদেবীদের বসানো হয়। মাঝে থাকেন দেবী লক্ষ্মী। সবার উপরে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর। লক্ষ্মী দেবীর মাথার ওপরে দুই পাশে রাম ও লক্ষ্মণ। ডানদিকে গণেশ-লক্ষ্মী, বাম দিকে থাকেন সরস্বতী-কার্ত্তিক। পাঁচ দিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো হওয়ার পর মহানন্দা নদীতে নৌকায় করে নিয়ে যাওয়া হয় সদরঘাটে। সেই দিন সদরঘাটে মেলা হয়।সদরঘাট থেকে নৌকায় আবার কোঠাবাড়ি ঘাটে নিয়ে এসে দেবী লক্ষ্মীর নিরঞ্জন হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ৮৬ বছর আগে ক্ষিতীশ চন্দ্র রায় এই পুজো শুরু করেছিলেন। প্রথম থেকেই পরিবারের কুল দেব-দেবীদের লক্ষ্মী দেবীর মূর্তির সঙ্গে স্থান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পূজিত হন তাঁরা। সেই রীতি আজও একই ভাবে মেনে আসা হচ্ছে। বর্তমানে শুধুমাত্র পুজো ও মেলাই অনুষ্ঠিত হয়। তবে এক সময় এই পুজোকে ঘিরে গম্ভীরা বাউল গানের আসর বসত। পাঁচ দিন ধরে চলতো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শহরের গোটা বাড়ি এলাকায় বর্তমানে জায়গা অনেক কমে গেছে। ঘিঞ্জি পরিবেশ। তাই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর সম্ভব হয় না। তবে, নিষ্ঠা সহকারে হয়ে আসছে এই লক্ষ্মী পুজো।

No comments:
Post a Comment