প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২৬ ডিসেম্বর : পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে বহুদিন ধরে একটি পোকামাকড় খাওয়া উদ্ভিদ পাওয়া গেছে, যার নাম সুন্দিউ বাঁকুড়া। এটা আমিষভোজী ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। আমাজন বন থেকে একটি মাংসাশী উদ্ভিদ বাংলার বাঁকুড়ায় পাওয়া গেছে এবং এই বিষয়টি এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ নিয়ে সবার মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও, এই গাছটির ছবিতে এটি খুব বড় দেখায়, বাস্তবে এটি এত বড় নয়। এই গাছটি কিছুটা ছোট এবং লাল-কমলা রঙের, যাকে আমিষ বললে ভুল হবে।
প্রকৃতপক্ষে, এই বিশেষ উদ্ভিদ প্রজাতি প্রধানত ছোট পোকামাকড় খায়। এটি তার শরীরে একটি বিশেষ শিশিরের মতো রসের মাধ্যমে পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে এবং সেই পোকামাকড় থেকে রস চুষে তার জীবন টিকিয়ে রাখে। এই জাতের একটি বিশেষ প্রজাতি হল সুন্দুজ বা সূর্যশিশির। আফ্রিকান প্রজাতির এই উদ্ভিদটি শুধু বাঁকুড়া নয়, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অনেক বনাঞ্চলেও দীর্ঘকাল ধরে দেখতে পাওয়া যায়। এটি মাংসাশী নয় এবং সাধারণ মানুষ বা অন্যান্য বন্য প্রাণীর কোন ক্ষতি করে না।
এই সানডিউ প্রধানত পাথুরে এলাকায় জন্মে। এটি খুব ছোট এবং এর রঙ লাল-কমলা। এর পাতা গোলাকার এবং পাতার চারপাশে শাখার মতো গঠন রয়েছে। এটিতে একটি আঠালো পদার্থ রয়েছে যা দেখতে শিশিরের মতো। এই সানডিউর রঙ এবং এর আঠালো পদার্থ শিশির কণা এবং অন্যান্য ছোট পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে। যখন একটি পোকা সেই আঠালো পদার্থে আটকে যায়, তখন সে বাঁচতে পারে না।
আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বাঁকুড়ার সুন্দুজ বা সূর্যশিরের অস্তিত্ব নিয়ে অনেক উদ্বেগ রয়েছে। কেউ কেউ এই গাছটিকে আমিষভোজী ভেবে ধ্বংস করছে। তবে, এই গাছটি ইতিমধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুরের গুরগুরিপাল, চন্দ্রা, লালগড়ের মতো অনেক জঙ্গলে পাওয়া যায়।
গ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে এই গাছটিকে দেখছে, কিন্তু তাদের ভয় নেই। তবে বাংলা ও ভারতে এই উদ্ভিদ প্রায় বিলুপ্ত। এতে মানুষ বা বড় প্রাণীর কোনও ক্ষতি হয় না। খাদ্য হিসেবে পোকামাকড় খালেও একে মাংসাশী উদ্ভিদ বললে ভুল হবে।
তা সত্ত্বেও এমন বিপন্ন গাছপালা বাঁচাতে উদ্যোগ নিচ্ছে বন বিভাগ। মানুষ ভয় বা আতঙ্কে এই গাছপালা ধ্বংস করতে পারে। তাই মেদিনীপুর বন দফতর যেখানে এই গাছটি পাওয়া যায় সেই জায়গাগুলি চিহ্নিত করে সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছে৷ স্বাভাবিকভাবেই, দীর্ঘদিন ধরে মেদিনীপুরে বালু পাওয়া যাচ্ছে, এবং বন দফতর জনগণের কাছে আবেদন করেছে যে এই বিষয়ে ভয় পাওয়ার দরকার নেই।

No comments:
Post a Comment