বেলি ফুল চাষের সহজ উপায় জানুন - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 30 March 2022

বেলি ফুল চাষের সহজ উপায় জানুন



বেলি ফুল সুবাসের জন্য খুবই জনপ্রিয়।  বেলিকে আমাদের দেশের বেশিরভাগ উৎসবে ব্যবহৃত ফুল এবং সুগন্ধি ফুলের তোড়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  বর্তমানে এটি একটি আকর্ষণীয় ফুল হিসেবে বিবেচিত হয়।  এখন দেশের বিভিন্ন নার্সারিতে বাণিজ্যিকভাবে এটি চাষ হচ্ছে।  আমাদের দেশে তিন জাতের বেলি ফুল পাওয়া যায়।  



 

  বেলি ফুল বালি মাটি এবং ভারী এঁটেল মাটি ছাড়া সব ধরনের মাটিতে জন্মানো যায়।  জমিতে সেচ ও জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হয়।



  জমি প্রস্তুতি:

  চার-পাঁচবার লাঙল দিয়ে মই দিয়ে মাটি সমান করতে হবে।  জমি তৈরির সময় জৈব সার, ইউরিয়া, ফসফেট ও এমপি ব্যবহার করতে হবে।  প্রায় 1 মিটার ব্যবধানে রোপণ করা উচিৎ।  রোপণের পর ইউরিয়া প্রয়োগ করে সেচ দিতে হবে।


 

  গ্রীষ্মের শেষ থেকে বর্ষার শেষ পর্যন্ত বেলি ফুলের কাটিং বা চারা তৈরি করা যায়। এক চারা থেকে আরেক চারা এবং এক সারি থেকে আরেক সারির দূরত্ব 50 সেমি হতে হবে।  চারা রোপণের জন্য গর্তগুলি খুঁড়ে, মাটিতে জৈব সার এবং কাঠের ছাই মিশিয়ে গর্তগুলি পূরণ করতে হবে।  তারপর প্রতিটি গর্তে বেলি কলম রাখুন।  বর্ষাকালে বা বর্ষার শেষে কলম রোপণ করা ভালো।  তবে সেচ ব্যবস্থা ভালো হলে বসন্তেও কাটিং করা যায়।


  

  সার প্রয়োগ:

  জৈব মাটিতে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সার মিশিয়ে টবে বেলি ফুল জন্মানো যায়।  টবটি বাড়ির বারান্দায় বা বাড়ির ছাদে রাখতে পারেন।


 

  বেলি ফুল চাষের জন্য মাটিতে সব সময় জল থাকতে হবে।  গ্রীষ্মকালে 10-12 দিন, শীতকালে 15-20 দিন এবং বর্ষায় সময়মতো বৃষ্টি না হলে জমির অবস্থা বুঝে এক বা দুটি সেচ প্রয়োগ করা প্রয়োজন।  বেলি ফুলের বাগানে আগাছা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিৎ।  মাটি বা টব থেকে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।  খড় কেটে জমিতে ছড়িয়ে দিলে সেচের প্রয়োজন কম হয় এবং আগাছা বেশি জন্মায় না।


  অন্যদিকে বেলি ফুলের গাছের ডালপালা প্রতি বছর কাটতে হয়।  শীতের মাঝামাঝি সময়ে ডাল ছাঁটাই করতে হবে।  বেলি ফুলের গাছগুলি মাটির স্তর থেকে 30 সেন্টিমিটার উপরে কাটা উচিৎ।  ছাঁটাই করার কয়েকদিন পর মাটি বা টবে সার দিতে হবে।



  রোগ ও নিয়ন্ত্রণ:

  বেলি ফুল গাছে ক্ষতিকারক পোকা দেখা যায় না।  মাকড়সার আক্রমণ হতে পারে।  এদের আক্রমণে পাতায় সাদা আবরণ পড়ে, আক্রান্ত পাতা গোলাকার হয়ে যায়।


  সালফার পাউডার বা সালফারযুক্ত অ্যান্টিসেপটিক ওষুধ যেমন সল্টফ, ক্যালথেন পাতা স্প্রে করে মাকড়সা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।  এক ধরনের ছত্রাকজনিত রোগ যাতে বেলি ফুলের পাপড়িতে হলুদ দাগ না থাকে।  এগ্রোসান বা ট্রেসেল-২ প্রয়োগ করে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।  ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসে গাছে ফুল ফোটে।  সাধারণত ৫-৬ বছর পর গাছ কেটে নতুন চারা রোপণ করা হয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad