বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা হিসেবে স্বীকৃত। মাছ চাষের খরচের 70-80% মাছের খাদ্যে ব্যয় হয়। তাই ফুড এফসিআর এবং ফুড ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা থাকা জরুরি। আধুনিক মৎস্য চাষে মাছের বৃদ্ধির জন্য সম্পূরক খাদ্য প্রয়োজন। আর এই মাছকে ভাসমান খাবার খাওয়ানোর আধুনিক প্রযুক্তি। এই খাবার জলে ভাসতে পারে, তাই মাছের খাওয়ার সুবিধা হয়। কিন্তু সাধারণ মাছ চাষীরা এই খাবারের ব্যবহার সম্পর্কে জানে না। তাই মৎস্য অধিদপ্তরের অফিসিয়াল নির্দেশনায় মাছের জন্য ভাসমান খাবার ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ধরা যাক, 25 গ্রাম ওজনের 1000টি গাছ একটি পুকুরে রেখে দেওয়া হয়েছে। তাহলে 25 গ্রাম মাছের জন্য প্রতিদিন 2 গ্রাম খাবার প্রয়োজন। তাহলে 1000টি মাছের জন্য 1000টি মাছের প্রতিদিন খাবার প্রয়োজন = 1000 গ্রাম X 2 গ্রাম = 2000 গ্রাম বা 2 কেজি। একটি পুকুরে মাছের জন্য দুবার খাবার প্রয়োজন। সকালে (6.30 - 7.30) 1 কেজি এবং বিকেলে (3.30 - 4.30) 1 কেজি দিতে হবে।
মৎস্য চাষের মোট খরচের প্রায় 50-60 শতাংশ সার এবং সম্পূরক খাদ্য সরবরাহে ব্যয় হয়। ফলে প্রবৃদ্ধি কম। পুকুরে প্রাকৃতিকভাবে ছোট ছোট সবুজ কণা উৎপন্ন হয়, যা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন শৈবাল, ফাকা, নাস্তিকতা, ডায়াটম, ওয়ালবক্স, আনবিনা ইত্যাদি। এই প্রাকৃতিক খাবার জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে বেশি পরিমাণে বাড়তে হলে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। যেসব মাছ প্রাকৃতিক খাবার খায় সেগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং খেতে সুস্বাদু হয়।
পুকুরে উৎপাদিত প্রাকৃতিক খাদ্যের অভাব হলে মাছের দ্রুত শারীরবৃত্তীয় বিকাশের জন্য প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ করা প্রয়োজন। মাছ ছাড়ার পরের দিন সকাল ও বিকেলে সংরক্ষিত মাছের মোট দৈহিক ওজনের 5-6% হারে সম্পূরক খাদ্য দিতে হবে। উল্লেখ্য, প্রতি 20 কেজি মাছের জন্য কমপক্ষে 1 কেজি খাবার প্রয়োগ করতে হবে।

No comments:
Post a Comment