অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে সংক্রামক রোগ হতে পারে। সম্প্রতিক লন্ডনের রয়্যাল ফ্রি হসপিটালের এক গবেষণা এমনই কিছু ধরা পড়েছে।
গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত লবণ যেমন এর ঘাটতিও খারাপ। আসলে দীর্ঘ সময় ধরে অল্প পরিমাণে লবণ খেলে শরীরে 'ইন্টারলিউকিন-১৭' উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। Interleukin-১৭ হল এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা যা ইমিউন সিস্টেমকে ভাইরাস চিনতে ও ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এর অভাব একজন ব্যক্তিকে সংক্রামক রোগের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
কিডনি রোগীদের জন্য বিপজ্জনক:
গবেষণা দলের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক জ্যাক পেম্বারটন-হুইটলির মতে, কিডনি রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো উচিৎ নয়। বিশেষ করে 'জিটেলম্যান সিনড্রোম' এবং 'বারটার সিনড্রোম'-এ আক্রান্ত রোগীরা। আসলে, এই দুটি রোগেই কিডনি থেকে সোডিয়াম ফিল্টার করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। এই কারণেই যে রোগীরা তার জেডির অধীনে আসে তাদের বারবার ছত্রাক এবং মূত্রনালীর সংক্রমণ মোকাবেলা করতে হয়।
ডায়াবেটিস রোগীদেরও সতর্ক হতে হবে:
হুইটলি বলেন, ডায়াবেটিক রোগী বা থাইরয়েড ও বিষণ্নতার চিকিৎসায় কার্যকর ওষুধ গ্রহণকারী রোগীরা ঘন ঘন প্রস্রাবের অভিযোগ করতে পারেন। এ কারণে তাদের শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সোডিয়ামের অভাব মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অলসতা, ক্লান্তি এবং বিভ্রান্তির অভিযোগের কারণ হতে পারে। নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালের সাম্প্রতিক সংখ্যায় গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
শরীরের কতটুকু লবন দরকার
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক সর্বোচ্চ ২৩০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম গ্রহণ করা উচিৎ।
ইউএস সিডিসি অনুসারে, গড় প্রাপ্তবয়স্করা ৩৪০০ মিলিগ্রামের বেশি সোডিয়াম খাচ্ছেন
এই তিনটি বিপদও বিদ্যমান-
১. সোডিয়াম গ্রহণে অত্যধিক হ্রাস ইনসুলিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বিকাশ ঘটাতে পারে, যা রক্তে শর্করার বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করে।
২. শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করার জন্য হার্টের সোডিয়াম প্রয়োজন, এর অভাবে হার্ট ফেইলিউর হয়।
৩. বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে সোডিয়ামের মাত্রা কমলে খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যায়, যা হার্টের জন্য মারাত্মক।

No comments:
Post a Comment