'বয়স্কদের সেবা করলে ফল পাবেন', এই কথা অনেকের মুখে শুনে থাকবেন নিশ্চয়ই। তবে এবারে মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলায় এই কথাই সত্যি হতে চলেছে। এখানকার পানওয়ার চৌহানান গ্রামে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করার জন্য পুত্রবধূকে পুরষ্কৃত করা হয়।
পানওয়ার চৌহানান গ্রামে, গ্রামবাসীরা এই বিষয়ে সভা করেন। সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, শ্বশুর-শাশুড়ির সেবার জন্য পুত্রবধূকে পুরষ্কৃত করা হবে। এ জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা এমন সব পুত্রবধূকে বেছে নেয়, যারা শ্বশুর-শাশুড়ির অনেক সেবা করেছেন।
এ বিষয়ে সরপঞ্চ (প্রধান) বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের জনসংখ্যা প্রায় ৩২০০। শাশুড়ি ও পুত্রবধূর ঝগড়ার খবর গ্রামে প্রায়ই সামনে আসত। এতে অনেক বাড়িতে সমস্যা দেখা দেয়। পরিবারে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছিল। তা দেখেই শুরু হয় উদ্যোগ।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের পর প্রায় দুই মাস ধরে বাড়িতে কোনও ঝগড়া-মারামারির খবর নেই। এখন মহিলারা চাইছেন তারা যেন এই পুরষ্কার পান। এমতাবস্থায় সবাই শ্বশুর-শাশুড়ির যত্ন নিচ্ছেন এবং তাদের অনেক সেবা করছেন। রাজকুমারী যাদব, ৩৫, প্রথম পুত্রবধূ যিনি এই পুরষ্কার পেয়েছেন। গ্রাম পঞ্চায়েত তাকে পুরষ্কার দিয়ে সম্মানিত করেছে।
রাজকন্যার স্বামী রাজ বাহাদুর যাদব কাজের সূত্রে বাইরে থাকেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে, রাজকুমারীর ৬৭ বছর বয়সী শ্বশুর শিবনাথ যাদব হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এটা দেখে রাজকুমারী প্রথমে ঘাবড়ে গেলেও শীঘ্রই নিজেকে সামলে নিলেন। এর পরে, প্রথমে বাড়িতে পাম্পিং করা হয়েছিল এবং তারপর প্রাথমিক চিকিত্সা করা হয়েছিল।
তিনি তার শ্বশুরকে একাই জবলপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবশেষে রাজকুমারীর সাহস-আবেগ তার শ্বশুরের জীবন রক্ষা করে এবং তাকে সুস্থ করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। রাজকুমারীর দিন শুরু হয় শাশুড়ি ও শ্বশুরের আশীর্বাদ নিয়ে। এর পরে, তিনি তাদের জন্য চা, জলখাবার এবং খাবারের ব্যবস্থা করেন।

No comments:
Post a Comment