রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে আমেরিকার সতর্কতা উপেক্ষা করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন যে "দেশ রাশিয়া থেকে আরও অশোধিত তেল কিনবে।" অর্থমন্ত্রী বলেন, "মস্কো থেকে আরও তেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।" রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, "আমরা যখন ডিসকাউন্ট রেটে তেল পাচ্ছি, তখন কেন কিনব না?" তিনি বলেন, "আমি জাতির স্বার্থ ও চাহিদাকে প্রাধান্য দিই। আমরা মস্কো থেকে তেল কেনা শুরু করেছি। আমাদের যদি কম দামে অপরিশোধিত তেল দেওয়া হয়, তবে আমরা কেন তা কিনব না, যা আমাদের দেশের মানুষের উপকারে আসবে।"
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত রাশিয়ার ওপর অনেক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার ভয়ে বিশ্বের অনেক দেশ রাশিয়ার সাথে তাদের বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণেই প্রায় চল্লিশ দিন ধরে যুদ্ধরত রাশিয়া চারদিক থেকে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। এই সংকটের সময়ে রাশিয়াকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে ভারত। ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল ছাড়ে প্রচুর পরিমাণে অপরিশোধিত তেল কিনছে, যা আমেরিকার নজরে রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভারতকে সতর্ক করেছিল যে রাশিয়ার কাছ থেকে আরও তেল কিনলে নয়াদিল্লীকে মূল্য দিতে হবে। আমেরিকা রাশিয়ার উপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনতে অন্য দেশগুলোকে নিষেধ না করলেও যে দেশগুলো কম দামে তেল ক্রয় করছে সেদিকে নজর রাখছে। ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনছে। গত বছর ভারত রাশিয়া থেকে 16 মিলিয়ন ব্যারেল তেল কিনলেও এই বছরের মার্চ পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে 13 মিলিয়ন ব্যারেল তেল কিনেছে।
এ কারণেই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীন সফর শেষে দুই দিনের সফরে নয়াদিল্লীতে আসেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্বে কোনও চাপ কাজ করবে না। তিনি আরও বলেন, "ভারত ও রাশিয়া সবসময়ই কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে।"

No comments:
Post a Comment