গরু পাচার কাণ্ডে হেফাজত তৃণমূল কংগ্রেসের বরিষ্ঠ নেতা তথা দলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিন মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জামিন মেলেনি। এবারে জামিন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। সূত্রে খবর, ৩০ নভেম্বর-বুধবার এই মামলার শুনানি রয়েছে।
গরু পাচার কাণ্ডে একদিকে সিবিআই ও অন্যদিকে ইডির যাতাকলে অনুব্রত। চলতি বছর আগস্টে গরু পাচার কাণ্ডে সিবিআই অনুব্রত মণ্ডলকে গ্ৰেফতার করে। এর পাঁচ দিন পর থেকেই আসানসোল সংশোধনাগারে রয়েছেন তিনি। বারবার জামিনের আবেদন জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। এরই মধ্যে তার বিপুল অর্থের উৎস খুঁজতে ময়দানে নামে ইডি। সম্প্রতি, আসানসোল সংশোধনাগারে দীর্ঘ ৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্ৰেফতার করে ইডি।
শুধু তাই নয়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুব্রত মণ্ডলকে তাদের নয়াদিল্লি সদর দফতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে ইডি। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতে অনুব্রতর ট্রানজিট রিমান্ডের জন্য আবেদন করেছে, যাকে দিল্লী হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন তৃণমূল নেতার আইনজীবী। আগামী ১ ডিসেম্বর দিল্লী হাইকোর্টে এই বিষয়ে শুনানি হবে।
এদিকে তার আইনজীবী অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন সোমবার। উল্লেখ্য, ২৫ নভেম্বর অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবী আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালতে জামিনের আবেদন করেননি। এ বিষয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা সংবাদ মাধ্যমকর্মীদের জানান তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন যে, আগামী বছর রাজ্যে ত্রি-স্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, জামিন পাওয়া শুধু অনুব্রত মণ্ডলের জন্য নয়, তার নিজের দলের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অনুব্রতর অনুপস্থিতি বীরভূম জেলায় রাজ্যের শাসক দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আঘাত করেছে, যেখানে শাসক দল ২০১৮ সালের শেষ গ্রামীণ বডি ভোটে প্রায় সমস্ত আসন দখল করেছিল, একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেছেন, সম্পূর্ণভাবে অনুব্রত মণ্ডলের জন্য। সেই কারণে সেখানে দলের জেলা সভাপতি পদে অনুব্রতকে বহাল রাখা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment