বিতরণের জন্য শীতবস্ত্র না পেয়ে বেজায় চটলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ক্ষুব্ধ হয়ে সভা থামিয়ে মঞ্চেই বসে পড়েন তিনি। পাশাপাশি জেলাশাসক ও বিডিওকেও ভর্ৎসনা করেন তিনি। প্রশাসনিক বৈঠকে আধিকারিকদের ধমক দেওয়া নতুন নয়, তবে এবারে দক্ষিণ ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখা গেল রনংদেহী মূর্তিতে। মঙ্গলবার হিঙ্গলগঞ্জে এক গুচ্ছ প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি শীত বস্ত্র এবং কম্বল বিতরণের একটি প্রোগ্রাম ছিল, কিন্তু তিনি যখন মঞ্চে পৌঁছান, তখন বিতরণের জন্য শীত বস্ত্র এসেই পৌঁছায়নি। এতেই তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং সভা থামিয়ে স্টেজেই বসে পড়েন তিনি। এও বলেন, শীত বস্ত্র যতক্ষণ না আসবে, সভা শুরু করবেন না।
সরকারি আধিকারিকদের ওপর বিরক্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর চব্বিশ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে সরকারি পরিষেবা বিতরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চেই বসে থাকলেন। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী হাত নেড়ে ভিড়ের দিকে ইশারা করেন, “বসো। আমিও বসি।" শীতের পোশাক না আসা পর্যন্ত তিনি কর্মসূচি শুরু করবেন না বলেই জানান।
তিনি বলেন, এখানে কাপড় বিতরণ করতে এসেছেন, কিন্তু যখন কাপড় বিতরণ করা হবে না, তাহলে কেন তিনি সভা করছেন। এরপর তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে ভর্ৎসনা করে বলেন, এই এলাকার জন্য ১৫ হাজার শীতবস্ত্র দেওয়ার কথা থাকলেও বিতরণের জন্য কেন আনা হয়নি। এরপর মঞ্চে বসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শীতের পোশাক না আসা পর্যন্ত তিনি সভা করবেন না।
মঙ্গলবার হিঙ্গলগঞ্জে সরকারি পরিষেবা বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। ভালো মেজাজে কথা বলছিলেন মমতা। দেবী পূজা উপলক্ষে ১৫ হাজার শীতবস্ত্র দেওয়ার ঘোষণা দিলেও মঞ্চে উপস্থিত সরকারি কর্তারা একে অপরের কাছে শীতবস্ত্র চাইতে থাকেন। কেউ বলেন, “বিডিও অফিসে আছে। এ কথা শুনে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৫ হাজার কোথায় রেখেছেন? কেন বিডিও অফিসে থাকবে? বিডিওকে বলুন নিয়ে আসতে। আমি এখানেই অপেক্ষা করব।" এরপর প্রায় ১৫ মিনিট বসে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমত্রী বলেন, তিনি মানুষের জন্য লড়াই করেন, কিন্তু যখন মানুষ বঞ্চিত হয়, তখন তিনি খুব রেগে যান। যাই হোক, এরপর অনুষ্ঠানস্থলে আনা হয় শীত বস্ত্র এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেগুলি বিতরণ করেন।

No comments:
Post a Comment