মদ্যপান করতে গিয়ে ঝগড়া! কর্মচারীকে খুন, গ্রেফতার মালিক
নিজস্ব প্রতিবেদন, ২৯ মে, হুগলি : মদ্যপান করতে গিয়ে দোকান মালিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এক কর্মচারী। ক্ষুব্ধ মালিক মদের বোতল ভেঙে কর্মচারীকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। এতে ওই কর্মচারীর মৃত্যু হয়। মৃত কর্মচারীর নাম বাবুলাল মান্ডি (৪৫)। বাড়ি হুগলি জেলার পান্ডুয়া থানার বাইনচি গ্রামে। রাতে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পান্ডুয়া থানার পুলিশ খুনের অভিযোগে দোকানের মালিক সুভাষ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে।
রবিবার সকালে কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন বাবুলাল। প্রতিদিন বিকেলে বাড়িতে আসতেন খাবার খেতে। রবিবার দুপুরের পর বাবুলাল না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
এদিকে বাইনচি গ্রামের জিটি রোডের ধারে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানের ভেতর থেকে আওয়াজ শুনে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। দোকানের দরজা ভিজে গেছে। স্থানীয় লোকজন দোকানে ঢুকে বাবুলালকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন।
তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পাশেই পড়ে ছিল ভাঙা মদের বোতল। রক্তাক্ত অবস্থায় বাবুলালকে উদ্ধার করে পান্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে বাবুলাল মান্ডির মৃত্যু হয়।
পান্ডুয়া পুলিশ জানিয়েছে, বাবুলাল হার্ডওয়্যারের দোকানের কর্মচারী ছিলেন। দোকানের মালিক সুভাষ চট্টোপাধ্যায় ও বাবুলাল দুজনেই দোকানে বসে মদ খায়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, এরপরই মদ খাওয়া নিয়ে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।
দোকান মালিক মদের বোতল দিয়ে বাবুলালের মাথায় আঘাত করেন। পুলিশ জানায়, মদের বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করে বাবুলালের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় দোকানের মালিক সুভাষ চট্টোপাধ্যায়কে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পান্ডুয়া থানার পুলিশ।
অন্যদিকে, বাবুলালের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাবুলালের ভাইপো সুভাষ মান্ডি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি কাকা আহত হয়েছেন। আমরা তাদের হার্ডওয়্যারের দোকানের ভিতরে পড়ে থাকতে দেখেছি। আমরা দ্রুত তাকে পান্ডুয়া হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।"
মৃতের স্ত্রী সোমব্রি মান্ডি বলেন, “সুভাষ মদ খেয়ে অন্যরকম আচরণ করতেন। এর আগেও অনেকের সঙ্গে তার বিরোধ, মারামারি হয়েছে। আমি জানি না গতকাল কি হয়েছে।" বিকেলে স্বামীকে খুঁজতে গিয়ে সুভাষের দোকানের বাইরে একটি সাইকেল নিয়ে দেখা যায়, ভেতরে বাবুলাল আহত অবস্থায় পড়ে আছে।

No comments:
Post a Comment