শিশুদের জন্য বিপজ্জনক রেটিনোব্লাস্টোমা - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 30 May 2023

শিশুদের জন্য বিপজ্জনক রেটিনোব্লাস্টোমা


শিশুদের জন্য বিপজ্জনক রেটিনোব্লাস্টোমা

প্রেসকার্ড নিউজ, হেল্থ ডেস্ক, ৩০ মে: সাধারণ রোগ হলে মানুষ ততোটা আতঙ্কিত হয় না, যতোটা ভয় পেতে শুরু করে ক্যান্সারের নাম শুনলেই। আর শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ চোখে যদি এটি হয়, তবে এটি একটি খুব বিপজ্জনক পরিস্থিতি হতে পারে। চোখেও ক্যান্সার হতে পারে। একে রেটিনোব্লাস্টোমা বলে। চোখের ক্যান্সারের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে প্রতি বছর ৮ থেকে ১৪ মে বিশ্ব রেটিনোব্লাস্টোমা সচেতনতা সপ্তাহও পালন করা হয়। আজ আমরা আপনাকে রেটিনোব্লাস্টোমা সম্পর্কে তথ্য দিতে যাচ্ছি।

রেটিনোব্লাস্টোমা কি?

রেটিনোব্লাস্টোমা হল এক ধরনের ক্যান্সার যা চোখের রেটিনায় তৈরি হয়। রেটিনা হল চোখের পিছনে স্নায়ু টিস্যুর একটি পাতলা স্তর। এটি এক বা উভয় চোখকে প্রভাবিত করতে পারে। এটি একটি রোগ যা জন্মের পরপরই বিকাশ লাভ করে। এটি এতোটাই বিপজ্জনক যে চোখের সাথে সাথে জীবনও কেড়ে নিতে পারে।

কীভাবে এটি চোখে ঘটতে শুরু করে?

এটি চোখের রেটিনায় একটি ছোট টিউমার হিসাবে শুরু হয়।  এটি আকারে খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়।  সময়মতো যত্ন না নিলে চোখ ও দৃষ্টি উভয়েরই ক্ষতি হতে পারে।  প্রথম দিকে, টিউমারটি চোখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু চিকিৎসা না করলে টিউমার চোখের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মস্তিষ্কের মতো শরীরের অনেক অংশে,এমনকি হাড়ে পর্যন্ত।

কোন বয়সে রেটিনোব্লাস্টোমা হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। যদিও অনেক সময় বড় শিশুরাও এতে আক্রান্ত হতে পারে। প্রতি ১৫,০০০-১৮,০০০ শিশু জন্মের মধ্যে প্রায় ১ জন এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়।

তাহলে কি প্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়স্কদের মধ্যে এটি ঘটে না?

প্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়স্কদের মধ্যে, এই ধরনের ক্যান্সার রেটিনোব্লাস্টোমা হওয়ার ঝুঁকি নগণ্য। ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সী লোকেরা অন্য ধরণের চোখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

রেটিনোব্লাস্টোমা কেন হয়?

যদি একজন পিতা-মাতা বা ভাইবোনের চোখের ক্যান্সার থাকে বা ছিলো, তবে জন্মের সময় শিশুর রেটিনোব্লাস্টোমা হওয়ার ঝুঁকি ৫০% পর্যন্ত বেড়ে যায়। গর্ভে বেড়ে ওঠা শিশুর কিছু পুষ্টির অভাবের কারণেও এটি ঘটে।

রেটিনোব্লাস্টোমা কি নিরাময়যোগ্য?

রেটিনোব্লাস্টোমার চিকিৎসা সম্ভব। তবে সময়মতো এটি শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ে, এই ক্যান্সার সাধারণত লেজার এবং কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীর জীবন, চোখ ও দৃষ্টিশক্তি বাঁচায়।অন্যদিকে চিকিৎসায় দেরি হলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এমনকি অস্ত্রোপচারে চোখ সরাতেও হতে পারে বা দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

রেটিনোব্লাস্টোমা ছাড়া চোখের ক্যান্সারের বিভিন্ন ধরন কি কি?

অকুলার মেলানোমা -

এটি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ চোখের ক্যান্সার।  মেলানোমা অর্থাৎ টিউমার সেসব কোষে হয় যা চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে পিগমেন্ট তৈরিতে জড়িত।

প্রাইমারি ইন্ট্রাওকুলার লিম্ফোমা -

এই ক্যান্সারে লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকণিকা জড়িত। এটি সাধারণত এইচআইভি এইডস রোগীদের মধ্যে দেখা যায়।শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোষগুলোকে বলা হয় লিম্ফোসাইট এবং যে কোষগুলো ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় সেগুলোকে বলা হয় লিম্ফোমা বা লিম্ফ ক্যান্সার।

অকুলার মেটাস্টেসিস -

কখনও কখনও এমন হয় যে টিউমার যা শরীরের অনেক অংশে হয়, যেমন- ফুসফুসের ক্যান্সার, সেটাও চোখের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ক্যান্সারের জন্য দায়ী এই কোষগুলো রক্তনালীর মাধ্যমে চোখে পৌঁছাতে পারে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad