"আমি মরে গেলে বিচার পাব কী করে?" আদালতে প্রশ্ন পার্থর
নিজস্ব প্রতিবেদন, ৩০ মে, কলকাতা : প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় মঙ্গলবার আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেছেন এবং জামিনের আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বিচারককে প্রশ্ন করেন, "যদি রোগের চিকিৎসা না করায় তিনি মারা যান, তাহলে বিচার পাব কীভাবে?" তিনি বলেন, "তিনি অসুস্থ। সংশোধনাগারে সময়মতো চিকিৎসা হচ্ছে না। অভিযোগ পাওয়ার পর বিচারক বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দেন।"
মঙ্গলবার আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানি চলছিল। সেখানে ব্যক্তিগতভাবে পরিচয় হয় পার্থের। পার্থ চট্টোপাধ্যায় উঠে দাঁড়ান যখন তার আইনজীবী আদালতে বিচারককে তার মক্কেলের অসুস্থতার কথা বলেন।
তিনি বিচারককে হাত জোড় করে তার অসুস্থতার কথা জানান। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিচারককে বলেন, “জেল সুপার আমার অসুস্থতার কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখছেন। রিপোর্ট ১০ দিন পরে হাসপাতালে ফিরে আসে। একজন লোক অসুস্থ এবং ১০ দিন পর ডাক্তার এসে দেখবেন।
সোমবার, পার্থ সোমবার, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের আইনজীবী আদালতে দাবী করেছেন যে নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে তার মক্কেলের কোনও ভূমিকা নেই। এই মামলার মূল অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন অর্পিতা।
মঙ্গলবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় আদালতে প্রবেশের সময় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী অবশ্য এ নিয়ে মুখ খোলেননি। সাংবাদিকদের দিকে না তাকিয়ে পুলিশি কর্ডনে কোর্ট চকের দিকে হাঁটা শুরু করেন। তবে আদালত প্রাঙ্গণে তিনি আরেকটি প্রশ্নের উত্তর দেন।
সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস সোমবার কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে পার্থ বলেন, 'সবাই আসবে'। ২৩ জুলাই, ২০২২-এ রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নাকতলায় তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় ৩০০ দিনের বেশি সংশোধনাগারে কাটিয়েছেন
এর আগে, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট প্রায় ২৭ ঘন্টা ধরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল। তল্লাশির সময় পার্থের বাড়ি থেকে কিছু নথি পাওয়া যায়। সেসব নথিতে অর্পিতা মুখোপাধ্যায় নামে এক মডেল অভিনেত্রীর নাম ছিল।
ক্লু পেয়ে অর্পিতার বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডি। সেখান থেকে নোটের পাহাড় উদ্ধার করেছে ইডি। অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। রাজ্যের শিক্ষা দফতরের স্ট্যাম্প সম্বলিত বেশ কিছু খামও পাওয়া গিয়েছে টাকার স্তূপে।
এর পর রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ও তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী পার্থকে গ্রেফতার করে ইডি। গ্রেফতার করা হয় তার 'ঘনিষ্ঠ' সঙ্গীকেও। সেই সময় থেকে ৩০০ টিরও বেশি দিন কেটে গেছে এবং পার্থ সংশোধনাগারে রয়েছেন।

No comments:
Post a Comment