সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে মৃত্যু ২ শ্রমিকের
নিজস্ব সংবাদদাতা, ৩০ জুলাই, বীরভূম : সেপটিক ট্যাঙ্কে কাজ করার সময় মৃত্যু দুই স্থানীয় শ্রমিকের। দুর্ঘটনাটি ওড়িশার। নিহতদের নাম সফিকুল শেখ ও গোলশাহনুর শেখ।কয়েকদিন আগেও বীরভূমের খয়রাশোলের তিন বাসিন্দা সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমেছিলেন। এতে নিহত হন বীরবল বদ্যাকর (৪৫), সনাতন ধীবর (৪৮) ও অমৃত বাগদি (৩২)।
সূত্রের খবর, ধৌলি থানার রঘুনাথগঞ্জ এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে কাজ করছিলেন দুই শ্রমিক। তার সহকর্মীরা জানায়, বাড়ির ঠিকাদার প্রথমে সফিকুলকে সেপটিক ট্যাঙ্কে ঢুকতে বলেন।
সে বলেছিল সে এভাবেই নেমে গেছে। কিছুক্ষণ পর তার পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি অজ্ঞান হয়ে গেছেন ভেবে বাকি লোকেরা উদ্বিগ্ন হতে শুরু করে। এ কারণে গোলশাহনুরের শেখ তার খোঁজে ভেতরে প্রবেশ করলে ভেতরে প্রবেশের সাথে সাথেই তিনিও অজ্ঞান হয়ে যান।
বাকিরা গোলশাহনুরের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচতে পারেননি। চিকিৎসকেরা ওই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন, খবর পৌঁছে যায় পুলিশের কাছে। ধৌলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোটা ঘটনার তদন্ত করেছে।
দুই শ্রমিকের মৃতদেহের পোস্টমর্টেম প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় নয়াগ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে কবে নাগাদ দুই শ্রমিকের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
দুই পরিবারই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ওড়িশা থেকে মৃতদেহ দুটিকে বীরভূমে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছে। বাংলা সাংস্কৃতিক ফোরামের জেলা সম্পাদক শেখ রিপন বলেন, মরদেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন তৎপর।
বীরভূমের এই এলাকাটি ওড়িশার খুব কাছে এবং বীরভূম থেকে প্রচুর সংখ্যক শ্রমিক ওড়িশার এই এলাকায় কাজ করতে আসে এবং জঙ্গলমহলের শ্রমিকরা, তবে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
নিহতের স্বজনরা বলছেন, ওইসব লোক তাদের সন্তানদের অন্য রাজ্যে রোজগারের জন্য পাঠিয়েছিল, কিন্তু এমন পরিণতি হবে তা কখনও ভাবেনি। বাড়ির সন্তানের মৃত্যুতে শোকাহত গোটা পরিবার।

No comments:
Post a Comment