প্রেমে বেত্রাঘাত খেতেও রাজি হয়ে যান এই মহারাজা
প্রেসকার্ড নিউজ লাইফস্টাইল ডেস্ক,৩০অগাস্ট : পাঞ্জাবের মহারাজা রঞ্জিত গুল বাহারকে যখন রাজকীয় অনুষ্ঠানে গান গাইতে দেখেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। পেশায় একজন নৃত্যশিল্পী গুল বাহারের কণ্ঠ, সৌন্দর্য এবং নৃত্য এমন জাদু তৈরি করেছিল যে রঞ্জিত সিং প্রথম সাক্ষাতেই তার প্রেমে পড়ে যান। তিনি গুল বাহারকে তার প্রেমিকা বানাতে চেয়েছিলেন।কিন্তু গুল বাহার মহারাজার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এটা সেই সময়ের কথা যখন মহারাজার বয়স ৫০ বছর এবং গুল বাহারের বয়স ১৮ বছর অতিক্রম করেছেন। চলুন তাহলে জেনে নেই এই ঐতিহাসিক প্রেমের গল্প-
অমৃতসরের বাসিন্দা গুল বাহার মহারাজাকে এতটাই পাগল করে দিয়েছিলেন যে তিনি বিয়ের জন্য বেত্রাঘাত খেতেও রাজি হয়ে যান। অনেক ঐতিহাসিক তাদের বইয়ে এই প্রেমের গল্প উল্লেখ করেছেন।
পাঞ্জাবের ইতিহাসবিদ ও লেখক ইকবাল কায়সার বলেছেন, গুল বাহার, যিনি অমৃতসরের একটি মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন, প্রেমিকা হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং বিয়ে করার কথা বলেছিলেন। গুল বাহার বলেছিলেন, যে মহারাজ চাইলে আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারি। মহারাজ এতটাই গভীর প্রেমে পড়েছিলেন যে তিনি অবিলম্বে বিয়ে করতে রাজি হন। প্রস্তাবের পর মহারাজ গুল বাহারের পরিবারের কাছে তার হাত চেয়েছিলেন।
কথিত আছে, পরিবারের সদস্যরা একটি শর্ত রাখেন যে, তারা যদি সম্পর্ক চান, তাহলে মহারাজা রঞ্জিত সিংকে পায়ে হেঁটে যেতে হবে। যদিও এটি নিশ্চিত করা হয়নি যে এমনটাই হয়েছিল।
শিখ ধর্ম বাদ দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মেয়েকে বিয়ে করা মহারাজার পক্ষে সহজ ছিল না। কিন্তু বিষয়টি অকাল তক্ষতে পৌঁছলে তোলপাড় শুরু হয়। এতে শিখ ধর্মাবলম্বী অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেণ। অমৃতসরের শিখ তীর্থস্থান অকাল তক্ষতে পৌঁছানোর জন্য মহারাজাকে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
কিছু ঐতিহাসিক নথিতে বলা হয়েছে যে গুল বাহারকে বিয়ে করার জন্য তাকে গুরুদ্বারের মেঝে পরিষ্কার করার জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। ইতিহাসবিদ ইকবাল কায়সারের মতে, তার গবেষণা বলছে যে অকাল তক্ষত মহারাজা রঞ্জিত সিংকে বেত্রাঘাতের শাস্তি দিয়েছিল। গুল বাহারকে পেতে তিনি এই শাস্তিও মেনে নেন।
অনেক ঐতিহাসিক তাদের বিবাহ উদযাপন সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন। এটি ছিল তার সময়ের সবচেয়ে বড় বিয়ে। যারা লাহোর এবং অমৃতসরে সেই বিয়ে দেখেছিলেন তাদের মনে পড়েছিল যে এমন বিয়ে আগে কখনও হয়নি।
'সামারি অফ হিস্ট্রি' বইয়ের লেখক ও ইতিহাসবিদ সুজন রায় লিখেছেন, মহারাজের হাতে মেহেন্দি লাগানো হয়েছিল। বিয়েতে, তিনি রাজকীয় পোশাক পরেছিলেন এবং একটি হাতিতে চড়ে এসেছিলেন। অমৃতসরের রামবাগে নির্মিত একটি বাংলোতে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়।
বিয়েটা যে কতটা জাঁকজমকপূর্ণ ছিল, তা থেকে অনুমান করা যায় বেশ কয়েকদিন আগে বাংলোটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল যাতে করে সাজসজ্জা করা যায় অবসরে। বিয়ের একদিন আগে সঙ্গীতের বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যার জন্য শিল্পীদের দেওয়া হয়েছে সাত হাজার টাকা। সেই সময়ের উপস্থাপনার জন্য এটি ছিল বিপুল পরিমাণ অর্থ।

No comments:
Post a Comment