ভুয়ো কল সেন্টার খুলে লোনের নামে লক্ষ লক্ষ প্রতারণা! জালে ২
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, ৩০ আগস্ট: ভুয়ো কল সেন্টার তৈরি করে এক বেসরকারি সংস্থার থেকে লোন পাইয়ে দেওয়া এবং ইন্সুরেন্স সহ একাধিক বিষয়ে সেটেলমেন্টের নাম করে আর্থিক প্রতারণা চক্রের অভিযোগ। কয়েক মাস ধরে রমরমিয়ে চলছিল এই ব্যবসা৷ সম্প্রতি অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে সেই কল সেন্টারের হদিস পায় বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ৷ মঙ্গলবার বিকালে গোপনে অভিযান চালিয়ে ওই কল সেন্টারের মালিক ও তার এক সহযোগী মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ৷ পাশাপাশি ওই কল সেন্টারটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ।
বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম অভিজিৎ সাহা ও মৌমিতা দাস হাজরা ৷ এই কল সেন্টারের মাথা অভিজিৎ, মধ্যমগ্রামের পূর্বাচল এলাকার বাসিন্দা। মৌমিতা দত্তপুকুর থানা চড়খাড়া গ্রামের বাসিন্দা৷ এই কল সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের সন্ধান শুরু করেছে পুলিশ৷
পুলিশ জানিয়েছে বনগাঁ থানার প্রতাপগড় এলাকার দিলীপ বণিক নামে একটা ব্যবসায়ী অভিযোগ জানিয়েছিলেন৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা বেশ কয়েক বছর ধরে একাধিক এলাকায় ভুয়ো কল সেন্টার তৈরি করে লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে মানুষকে প্রতারণা করে চলেছে। মাস পাঁচেক আগে অভিযুক্তরা মধ্যমগ্রামের বৈকুন্ঠ রোডে ওই কল সেন্টারটি তৈরি করে ৷ এখানে ঘরের মধ্যে একাধিক ফোন ল্যাপটপ নিয়ে একাধিক কর্মী কাজ করতো সেখানে। প্রথমে বিভিন্ন নাম্বারে ফোন করে তাদের লোন প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাওয়া হতো৷ রাজি হলে একটি নামি কোম্পানি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলা হত৷ তারা লোন নিতে রাজি হলে তাদের কাছ থেকে প্রথমে প্রসেসিং ফি বাবদ এবং অন্যান্য কারণ দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হত৷
কয়েক মাস আগে বনগাঁর প্রতাপগড় এলাকার দিলীপ বণিক নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে বাজাজ কোম্পানির থেকে মোটা টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে ওই কল সেন্টার থেকে ফোন এসেছিল। তিনি বাজাজ কোম্পানির কল সেন্টার শুনে আগ্রহী হয়। এরপর লোন স্যাংশন হয়েছে জানিয়ে বিভিন্ন প্রসেসিং ফি বাবদ তার কাছ থেকে ২৮ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।এরপরেও লোন ক্লিয়ার না হওয়ায় দিলীপ বাবুর সন্দেহ হয়। তিনি প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ৫ তারিখে বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন৷
এরপরই ঘটনার তদন্ত নামে পুলিশ ৷ তদন্ত নেমে পুলিশ জানতে পারে ভুয়ো কলসেন্টার বানিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে লোন খাইয়ে দেওয়ার নাম করে, লোন সেটেলমেন্ট করে কিংবা ইন্সুরেন্স এর টাকা পাইয়ে দেয়ার নাম করে প্রতারণা ফাঁদ পেতেছে অভিযুক্তরা৷ এরপরেই গোপন অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রথমে মৌসুমিকে আটক করে। তাকে নিয়ে মধ্যমগ্রামের ওই কল সেন্টারে এসে মূল অভিযুক্ত অভিজিৎকে ধরে ফেলে৷
প্রাথমিক ভাবে অনুমান এই কয়েক মাসের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা৷ ধৃতদের সঙ্গে আর যারা যুক্ত রয়েছে তাদের সন্ধান শুরু করেছে পুলিশ৷ পাশাপাশি বুধবার ধৃতদের নিজেদের হেফাজতের আবেদন জানিয়ে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।

No comments:
Post a Comment