'মণিপুরের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে', ডিজিপিকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের
প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ০১ আগস্ট: মণিপুর সহিংসতার ঘটনায় কড়া মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এই বিষয়ে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেছেন যে, পরিস্থিতির দিকে তাকালে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে রাজ্যের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মে মাস থেকে আইনশৃঙ্খলা স্থবির হয়ে পড়েছে। সিজেআই মণিপুরের ডিজিপিকে সমন পাঠিয়েছে এবং জাতপাতের সহিংসতা সংক্রান্ত একাধিক পিটিশনের পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ আগস্ট হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত মণিপুরে মহিলাদের নগ্ন করে ঘোরানোর ঘটনার বিবরণ এবং জিরো এফআইআর রেজিস্ট্রেশনের তারিখ, এর সাথে সম্পর্কিত নিয়মিত এফআইআর-এর তারিখ জানতে চেয়েছেন।
এই সময়, সিজেআই হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিদের একটি কমিটি গঠনের কথাও বলেছিলেন, যা মণিপুরে সহিংসতার সময় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিশদ বিবরণ, ক্ষতিপূরণ এবং ১৬২ এবং ১৬৪- এর অধীনে ক্ষতিগ্রস্তদের বিবৃতি রেকর্ড করার তারিখগুলি নেবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, 'এই কমিটির পরিধি আমরা ঠিক করব। কোন এফআইআরের তদন্ত সিবিআই-এর কাছে হস্তান্তর করা উচিৎ তাও আমরা দেখব। আমরা এটাও জানি যে ৬৫০০ এফআইআর-এর তদন্ত সিবিআই-এর কাছে হস্তান্তর করা অসম্ভব।'
মহিলাদের ভিডিও মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এটা স্পষ্ট যে, এফআইআর দায়ের করতে অনেক দেরি হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে পুলিশ মহিলাদের বিবস্ত্র করে ঘোরানোর পরেই তাদের বক্তব্য রেকর্ড করেছে এবং অবিলম্বে এফআইআর নথিভুক্ত করার চেষ্টা করেনি। পাশাপাশি শুনানির সময়, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সরকারের তরফে নিজের পক্ষ পেশ করেন।
তিনি আদালতে যুক্তি দেখিয়ে বলেন, 'আমরা স্ট্যাটাস রিপোর্ট তৈরি করেছি, যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে, আবেগের যুক্তিতে নয়।' তিনি বলেন যে, সরকার সমস্ত থানাকে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে অবিলম্বে এফআইআর নথিভুক্ত করার এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ২৫০ গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই নারীর যৌন হয়রানির ভিডিওর ঘটনায় এক নাবালক-সহ ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment