কেন্দ্রীয় মন্ত্রী-সহ জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান! রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ বিজেপির
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া, ২৩ সেপ্টেম্বর: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার ও জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভে বিজেপি কর্মীরাই। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কটাক্ষ তৃণমূলের।
দিন কয়েক আগে বিজেপির বাঁকুড়া জেলা কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে তালাবন্দ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন দলেরই একাংশ। এবার সেই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপির জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদে সামিল হল বিজেপিরই একাংশ। শনিবার বাঁকুড়ার শালতোড়ার এই ঘটনায় রীতিমত অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। 'এই ছবিই প্রমাণ করছে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ কতটা প্রকট', কটাক্ষ শাসক দলের।
লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই বাঁকুড়া জেলা জুড়ে প্রকোট হচ্ছে পদ্ম শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। প্রকোট হচ্ছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার ও বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মণ্ডলের ওপর বিজেপির নীচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ। দল ও সংগঠন চালনার ক্ষেত্রে সুভাষ সরকার ও সুনীল রুদ্র মণ্ডল একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন, এই অভিযোগ তুলে সপ্তাহ দুই আগেই কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে বাঁকুড়া জেলা কার্যালয়ে তালাবন্দী করে বিক্ষোভ দেখান দলেরই কর্মীদের একাংশ। হেনস্থা করা হয় দলের জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মণ্ডলকেও।
এবার শালতোড়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এলাকার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার ও বিজেপির জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে শালতোড়ায় পথে নামলেন বিজেপি কর্মীদের একাংশ। এদিন দুপুরে শালতোড়া লেদ মোড়ে রীতিমত রাস্তার পাশে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। স্লোগান ওঠে সুভাষ সরকার ও সুনীল রুদ্র মণ্ডল মুর্দাবাদ।
বিক্ষোভকারী বিজেপি কর্মীদের দাবী, সদ্য শেষ হওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে শালতোড়া ব্লকে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন বিজেপি কর্মীরা। সেজন্য বারবার শাসক দলের হাতে তাঁদের আক্রান্ত হতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরিকে তাঁরা পাশে পেলেও এলাকার সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকারকে পাশে পাননি।
এখানেই শেষ নয়, বিজেপি কর্মীদের দাবী, মণ্ডল সভাপতি সহ সাংগঠনিক বিভিন্ন পদে রদবদলের ক্ষেত্রে সুভাষ সরকার ও সুনীল রুদ্র মণ্ডল দলের স্থানীয় কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেননি। নিজেরা ঠাণ্ডা ঘরে বসে নিজেদের কাছের লোকদের দলীয় পদ পাইয়ে দিয়েছেন। অবিলম্বে দলের সংগঠনকে নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ না হলে জেলা জুড়ে আন্দোলন আরও তীব্রতর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপির বিক্ষোভকারী কর্মীরা।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসক দল। তৃণমূলের দাবী, পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলই প্রমাণ করছে এলাকায় বিজেপির কোনও অস্তিত্ব নেই। হাতে গোনা যে কয়েকজন রয়েছে, সাংসদকে কাছে না পেয়ে তারাও বিক্ষুব্ধ। এভাবেই বিজেপি শেষ হবে বলেও কটাক্ষ করে শাসক দল।

No comments:
Post a Comment