মিনি দুর্গা নজর কাড়লেও দুঃশ্চিন্তায় প্রতিমা-শিল্পী
নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি, ২৪ সেপ্টেম্বর: মিনি দুর্গা বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন জলপাইগুড়ির দেবাশীষ। ইতিমধ্যেই নেপাল, আসাম, রাজস্থান সহ বিভিন্ন জায়গায় পাড়ি দিয়েছে তার এই ছোট্ট দুর্গা প্রতিমা। এই বছরের জন্যও প্রতিমা বানানোর কাজ ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছিন জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের জলপাইগুড়ি-হলদিবাড়ি রাস্তায় রাখাল দেবী এলাকার দেবাশীষ ঝা। তাকে সহযোগিতা করতেন তার পরিবারের লোকজন।
এত নিখুঁত এবং সুন্দর ছোট্ট দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে অনেকেরই মন কেড়েছেন দেবাশীষ। প্রতিমার সমস্ত গহনা থেকে শুরু করে মাটি, বাঁশ, সুতলি, খড়, পেরেক ও রং- তুলি সবই দরকার পরে এই প্রতিমা বানাতে। প্রতিমার সমস্ত গহনা তিনি নিখুঁতভাবে তৈরি করে থাকেন। কারণ বাজারে এসব ছোট জিনিস সহজে মেলে না। তাই এই ছোট্ট দুর্গা প্রতিমার জন্য তিনি মুকুট থেকে মালা ও অন্যান্য সমস্ত গয়না নিজেই তৈরি করেন।
মাত্র ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি এই প্রতিমা জেলার পাশাপাশি রাজ্যের বাইরেও স্থান পেয়েছে। করোনাকালেও বেশ কয়েকটি প্রতিমার অর্ডার পেয়েছিলেন তিনি। গত বছরও দেবাশীষ ঝাঁ-এর তৈরি কয়েকটি প্রতিমা বিক্রি হয়েছিল। অনেক আশা নিয়ে এবছরও কয়েকটি প্রতিমা তিনি তৈরি করলেও এখনও কোনও অর্ডার পাননি, তাই হতাশ দেবাশীষ বাবু হাল ছেড়েই দিয়েছেন।
পুজোর সময় বেশ কয়েকটি প্রতিমা বিক্রি হলে সংসারের সুবিধা হয় বলেই জানান তিনি। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি প্রতিমা বানিয়ে আসছেন। তিনি বঞ্চিত শিল্পী ভাতা, সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে। বড় বড় পুজো হচ্ছে। বিভিন্ন ক্লাব সংগঠন ইতিমধ্যেই বড় প্রতিমার জন্য বায়না দিতে শুরু করেছেন। কিন্তু দেবাশীষ বাবু প্রতিমার কোন অর্ডার না আসায় হতাশ তিনি ও তার পরিবার। বর্তমানে যা অবস্থা, জিনিসের দামও উর্ধ্বমুখী, তাতে সংসার চালাইতে খুবই অসুবিধা।
মাত্র কয়েক বছর হল প্রতিমা বানানোর পাশাপাশি তিনি একটি ছোট্ট দোকান করে সংসার চালান। কিন্তু চিন্তা আদৌও এই শিল্প তিনি ধরে রাখতে পারবেন কিনা! এখন পর্যন্ত প্রতিমার বায়না না পাওয়ায় মন খারাপ দেবাশীষ ঝাঁ ও তার পরিবারের। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই প্রতিমা বানাতে যতটা শ্রম এবং খরচ, সেই অনুপাতে দামও পাওয়া যায় না।

No comments:
Post a Comment