দশমীর রাতে বিশেষ এই পদ ছাড়া অসম্পূর্ণ পুজো, ঐতিহ্য-পরম্পরা আজও অটুট কোয়েলের বাড়ির পুজোতে
কলকাতা: ঢাকে কাঠি পড়েছে, ইতিমধ্যেই আকাশে-বাতাসে ভাসছে মায়ের আগমণীর সুর। পুজোর প্রস্তুতি চলছে দিকে দিকে। পাড়ার পুজোর মণ্ডপ থেকে শুরু করে ক্লাব, বনেদি বাড়ি সব জায়গাতেই চলছে মায়ের পুজোর প্রস্তুতি। প্রাচীনত্বের গন্ধ মেখে বহু বনিতি বাড়ির পুজো রয়েছে তিলোত্তমার বুকে। ঠিক সেরকমই একটি পুজো হল মল্লিক বাড়ির দুর্গা পুজো। রঞ্জিত মল্লিক ও কোয়েল মল্লিকের বাড়িরে এই দুর্গা পুজো তার নিজস্ব ঐতিহ্যে বারবার চর্চায় উঠে আসে। নায়ক-নায়িকাদের বাড়ির পুজো হলেও পুজোর চার দিন আর সাধারণের মতই রঞ্জিত ও কোয়েল; সঙ্গী সাবেকিয়ানা।
চলতি বছর ১০০ বছরে পদার্পণ করবে ভবানীপুরের মল্লিক বাড়ির দুর্গা পুজো। জনশ্রুতি আছে, নবাব হুসেন শাহের আমলে বর্ধমানের গ্ৰামে এই পুজো প্রথম শুরু করেছিলেন মল্লিকদের পূর্বপুরুষ সুরথ মল্লিক। পরে শ্রীখণ্ড থেকে হুগলির গুপ্তিপাড়ায় চলে যান মল্লিকরা এবং সেখান থেকে আবার কলকাতায়। তবে, ভবানীপুরের বাড়িতে প্রথমে পূজিতা হন মা অন্নপূর্ণা। পরবর্তীকালে রাধামাধব মল্লিকের ছোট ছেলে সুরেন্দ্রমাধব মল্লিক এবং অন্যান্য ভাইদের উদ্যোগে দুর্গা পূজা শুরু হয়।
মল্লিক বাড়ির দুর্গা পূজায় রয়েছে বিশেষ কিছু আচার। জন্মাষ্টমীর পরের দিন কাঠামো পূজা শুরু হয় ভবানীপুরের মল্লিক বাড়ির ঠাকুরদালানে। বাড়ির কূলদেবতা শ্রীধর নারায়ণের পুজোর সঙ্গে প্রতিপদ থেকে চণ্ডীঘরে শুরু হয় চণ্ডীপুজো। প্রতিবার চালায় থাকেন মহাদেব, দেবীকে ডাকের সাজে সাজিয়ে তোলা হয়। স্বর্ণ অলংকারে সাজানো হয় দেবীকে। রীতি অনুযায়ী দেবীকে এইসব অলংকার পরান মহিলারা আর দেবীর হাতে অস্ত্র তুলে দেন পুরুষেরা।
বৈষ্ণব মতে মল্লিক বাড়িতে চলে পুজোর রীতি; সপ্তমীতে কলা বউ স্নান, অষ্টমীতে কুমারী পুজো অথবা নবমীতে হোম, এখানে পশু বলির কোনও প্রচলন নেই। পুজোয় অন্ন ভোগের প্রচলনও নেই। চাল, ডাল, বিভিন্ন ফল-মিষ্টান্ন এবং লুচি নৈবিদ্য ভোগ হিসেবে মাকে নিবেদন করা হয়। পুজোর ক'দিন বাড়িতে আমিষ খাবার ঢোকে না তবে, দশমীতে আদি গঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের পরে আমিষ রান্না হয় জমিয়ে, যার মধ্যে অন্যতম মেটে চচ্চড়ি। দশমীর রাতে এই পদ ছাড়া অসম্পূর্ণ মল্লিক বাড়ির পুজো।

No comments:
Post a Comment