সন্ধ্যা হলেই এই মন্দিরের দেবী গভীর অন্ধকারে ডুবে যান
প্রদীপ ভট্টাচার্য, ২১শে অক্টোবর, কলকাতা: সন্ধ্যা হলেই গভীর অন্ধকারে হারিয়ে যান এই মন্দিরের দেবী। আজও বলির রক্ত না পেলে সন্তুষ্ট হন না তিনি। জানেন কোথায় রয়েছেন এই দেবী? কিভাবে পৌঁছবেন তার কাছে? জানুন দেবীর রহস্যময় কিছু কাহিনী।
আদিবাসী সবর জাতির আরাধ্যা দেবী মা গুপ্তমনি, তার কাছে এলে ফিরে পাওয়া যায় হারানো সকল জিনিস। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস ওই মন্দিরে পোড়া মাটির হাতি বা ঘোড়া সুতো দিয়ে বেঁধে মানত করলেই পাওয়া যায় হারানো বস্তু। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায় প্রায় সাড়ে ৭০০ বছরের পুরনো এই মন্দির। দেবীর ইচ্ছায় আজও এখানে পাকা ছাদ হয়নি। টিনের ছাউনি দেওয়া পাকা দেওয়াল। ছোট্ট পরিসরে পাথরের মূর্তি আজও সন্ধ্যার পর নিমজ্জিত হয় গভীর অন্ধকারে। শুনলে অবাক হবেন সন্ধ্যার পর এখানে কোন আলো জ্বালান হয় না, এমনকি প্রদীপও না। এই মন্দিরের দেবী ব্রাহ্মণ্যবাদের বাইরে গিয়ে হতদরিদ্র আদিবাসীদের হাতেই পূজিতা হন। প্রাচীন রীতি মেনেই গুপ্তমনি মায়ের পুজো করেন সবর সম্প্রদায়ের মানুষ। তবে এই মন্দিরে আজও নবমী ও দশমী তিথিতে বলি প্রথা প্রচলিত আছে। যদিও এখন দুর্গাপূজোয় এখানে প্রচুর লোকসমাগম হয়, এমন কি প্রচুর মানুষ অন্যান্য জেলা থেকেও এখানে আসেন গুপ্তমনি মায়ের পুজো দিতে।
মন্দিরের ইতিহাস যেমন সুপ্রাচীন তেমনি মন্দিরের প্রতিষ্ঠা নিয়েও রয়েছে নানা কাহিনী। কথিত আছে ১২৭২ সালে ঝড়গ্রামের তৎকালীন রাজা মল্লদেবের প্রিয় হাতি হারিয়ে যায়। রাজা তার হাতি খুঁজতে দিকে দিকে লোক পাঠান কিন্তু অনেক খোঁজার পরেও সেই হাতী পাওয়া যায়নি। এদিকে রাজা একদিন স্বপ্নে দেবীর দর্শন পান এবং তিনি নির্দেশ দেন কাছেই সুখনিবাসা জঙ্গলেই তার হাতি বাঁধা আছে। ওই একই সময়ে সবর সম্প্রদায়ের নন্দভক্তা সেখানে একটি পাথরের মূর্তি উদ্ধার করে তাকে দেবীরূপে সেবা করতেন। এদিকে রাজা লোক লস্কর নিয়ে সুখনিবাসা পৌঁছে দেখেন, তার প্রিয় হাতী লতাপাতা দিয়ে বাঁধা আছে। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও রাজা তার হাতিকে উদ্ধার করতে পারেন না। এরপর নন্দভক্তা রাজার আদেশে দেবীকে বেলপাতা ও তুলসী দিয়ে পূজা করলে সেই হাতি মুক্ত হয়। সেই থেকে আজও সবর সম্প্রদায়ের লোকজনই সেই প্রাচীন প্রথা মেনেই গুপ্তমনি মায়ের পূজো করে আসছেন।
কোথায় অবস্থিত সেই মায়ের মন্দির? কিভাবে পৌঁছবেন সেখানে? কলকাতা থেকে মুম্বাই গামী ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারেই রয়েছে মা গুপ্তমনি মায়ের মন্দির। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে এর দূরত্ব ২৭ কিলোমিটার। আর খড়গপুর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার। এখানে এলে দেখতে পাবেন অতি সাধারণ এই টিনের চালের মন্দিরের গায়ে অসংখ্য ছোট ছোট পোড়ামাটির হাতি, ঘোড়ার মূর্তি বাঁধা। এছাড়াও অনেকেই তাদের কেনা নতুন গাড়ি বা বাইক নিয়েও এখানে পুজো দিতে আসেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস মা গুপ্তমনি দুর্ঘটনা থেকে তাদের রক্ষা করেন। এই অবাক করা মা গুপ্তমনির পুজো দেখতে কিন্তু আপনিও আসতে পারেন দুর্গাপূজোর সময়।

No comments:
Post a Comment