একদিনের দুর্গা পুজো! ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ষষ্ঠী থেকে দশমী
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান, ১৪ অক্টোবর: দুর্গা পুজো বাঙালির কাছে শ্রেষ্ট উৎসব। চারদিন ধরে মহামায়ার আরাধনায় মেতে থাকে আপামর বাঙালি। কাশফুলের মাথা দোলানো, শরতের আকাশ পুজোর আমেজ আরও বাড়িয়ে তোলে। আমোদ প্রিয় বাঙালি, দশমীর প্রাক্কালে গেয়ে ওঠে, নবমী নিশি রে, তোর দয়া নাই। কিন্তু দুর্গাপুজোর স্থায়ীত্ব যদি একদিন হয়? ভাবলেই মনটা কেমন বিষাদে ভরে উঠছে, তাই না? কিন্তু এমনটাও হয়, জানেন কী। বোধনের দিনেই বেজে ওঠে বিষাদের সুর। একদিনের জন্য বাড়ি আসেন উমা। পুজো নিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পাড়ি দেন কৈলাসের পথে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল হিরাপুর ধেনুয়া গ্রাম। এখানেই হয় একদিনের দুর্গা পুজো। মহালয়ার দিনেই পুজো নেন দেবী মহামায়া। কুমারীরূপে পুজো করা হয় দেবীকে। একদিনের পুজো শেষে হয় প্রতিমা নিরঞ্জন। এখানে দেবী অসুরবিনাশিনি রূপে দেখা দেন না। দুই সখী, জয়া-বিজয়াকে সঙ্গে নিয়ে বাপের বাড়ি আসেন পার্বতী।
তবে দেবীর একদিন পরেই কৈলাস প্রস্থানের জন্য তারা সকলেই চেষ্টা করেন, একদিনের পুজোতে চারদিনে উপভোগ করতে। পুজোর দিনে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন সকলে। তবে মাতৃপক্ষের সূচনার দিনে দেবীর প্রস্থান কাঁদিয়ে যায় ধেনুয়া গ্রামের মানুষকে।
গত ৪৬ বছর ধরে একদিনের দুর্গাপুজো হয়ে আছে ধেনুয়া গ্রামে। স্থানীয়রা জানান কালী কৃষ্ণ যোগাশ্রম নামে এই আশ্রমটি ১৯৩৭ সালে দামোদর নদীর ধারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তারপর এখানে আসেন তেজানন্দ ব্রহ্মচারী। ১৯৭৮ সালে তিনি স্বপ্ন দেশ পেয়ে এই পুজোর সূচনা করেন। তারপর থেকেই তেজানন্দ মহারাজের চালু করা নিময় মেনে এখনও ধেনুয়া গ্রামে হচ্ছে একদিনের দুর্গা পুজো। তবে এখন পুজো পরিচালনার সব দায়িত্ব রয়েছে গৌরি কেদারনাথ মন্দির কমিটির হাতে।
জয়া-বিজয়ার সঙ্গে দেবী দুর্গার মূর্তি সচরাচর দেখা মেলে না এই বাংলায়। তবে এই ধরণের মূর্তির পুজো, বিশেষভাবে প্রচলিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
সব রীতি রেওয়াজ মেনে হয় ধেনুয়া গ্রামে হয় একদিনের দুর্গা পুজো। স্থানীয় মানুষের এই পুজোকে কেন্দ্র করে উৎসাহ থাকে তুঙ্গে। পাশাপাশি, দূরদূরান্ত থেকে এই পুজো দেখতে ছুটে আসেন অনেকে। বাইরের মানুষের কাছে মহালয়ার এই দুর্গাপুজো বোনাস হলেও, স্থানীয়দের কাছে দেবীর দ্রুত গমন কিছুট মনখারাপের সাক্ষী হয়েই থাকে।
ধেনুয়া মন্দিরের সম্পাদক সুবল চন্দ্র খাঁ বলেন, 'কথিত আছে দুই সখী জয়া-বিজয়াকে নিয়ে মা উমা মর্ত্যে এসেছিলেন ভ্রমণ করতে। আমাদের সাধক তেজ আনন্দ ব্রহ্মচারী সাধনার বলে মায়ের মুর্ত রূপ দেখতে পেয়েছিলেন। তাই মা এখানে দশভূজা হলেও তার সন্তানেরা; লক্ষ্মী, গণেশ, কার্ত্তিক ও সরস্বতী নেই। রয়েছেন তাঁর দুই সখী।'
তিনি বলেন, 'এই পুজো এই অঞ্চলে বিশেষ। ধেনুয়া কেদারনাথ মন্দিরে একমাত্র এই পুজো হয়। এই পুজোয় মা অসুরদলনী নয়। হাজার হাজার ভক্তদের ঢল নামে পুজোয়। পুজো শেষে হাজার হাজার মানুষ খিচুড়ি প্রসাদ খান।'

No comments:
Post a Comment