স্ত্রীর এই চারটি গুণ থাকলেই আপনি ভাগ্যবান
প্রদীপ ভট্টাচার্য, ১লা নভেম্বর, কলকাতা: স্ত্রীর এই চারটি গুণ থাকলেই ভাগ্যবান হন স্বামীরা। কোন কোন গুণ রয়েছে এই তালিকায়? আপনার সাথেই বা কোনটি মিলছে? দেখুন কি জানাচ্ছে চানক্য'র নীতিশাস্ত্র। কথায় বলে সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে। কিন্তু এও সত্যি যে সুখী দাম্পত্য জীবনে স্বামী স্ত্রী উভয়েরই অবদান অনস্বীকার্য। আর তাই বিয়ের আগে সবদিক খতিয়ে দেখে নেওয়া হয়।
বর্তমানে বেশিরভাগ বিয়েই হয় ছেলেদের অর্থ আর মেয়েদের সৌন্দর্য দেখে। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো যে, শুধুমাত্র এটা দেখেই যদি বিয়ে হয় তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদ বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়াতে পারেন স্বামী বা স্ত্রীর যেকোন একজন। বলা হয় একজন নারী নিজের গুণ দিয়ে যে কোনো ঘরকে স্বর্গ বানিয়ে দিতে পারেন।
বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় এর মধ্যে অনেক সত্যতা রয়েছে। হিন্দু ধর্ম অনুসারে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয় এবং দাম্পত্য জীবনে পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক বলেও মনে করা হয়। স্বামীর চারিত্রিক দোষ ও দুর্বলতা যেমন স্ত্রীর জীবনে সমস্যা তৈরি করে তেমনি স্ত্রীর মধ্যে সঠিক গুণের অভাব থাকলে তা স্বামীর জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
চাণক্য নীতিতে মহিলাদের জন্য এমন কয়েকটি গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা কোনো পুরুষের ঘুমন্ত ভাগ্যকেও জাগিয়ে তুলতে পারে।
ধৈর্য্য ধরা: কথায় বলে তাড়াহুড়ো করা শয়তানের কাজ। এতে ভুল হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু যে ব্যক্তি ধৈর্য্যর সঙ্গে কাজ করেন তিনি খারাপ অবস্থাতেও নিরাস হন না বরং এই ধরনের ব্যক্তিরা এগিয়ে যান। তাই একজন ধৈর্য্যশীল মহিলাকে বিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছেন চানক্য। কারণ তিনি বুুঝে শুনে কাজ করতে পারেন। তাছাড়া সংসার তো নারীরাই চালান।
শান্ত মাথা: চানক্যনীতিতে বলা হয়েছে যেসব মহিলা শান্ত মনের অধিকারী, তারা ভালো ঘরনি হতে পারেন। কারণ তারা কোনো অবস্থাতেই রেগে যান না, তারা বুঝদার হন। স্থান ও কাল অনুযায়ী তারা ভেবেচিন্তে কাজ করতে চেষ্টা করেন। এই ধরনের মহিলারা নিজের স্বামীর জীবনকে সহজ করে তোলেন। যে কোনো বিষয়ে ভেবে চিন্তে পদক্ষেপ নেন। তাই এই ধরনের মহিলারা সংসারে সুখ আনেন।
সম্মান প্রদর্শন: যদি কোনো নারীর সঠিক মূল্যবোধ থাকে তাহলে সে কখনোই সংসারে অশান্তি ঘটতে দেয় না। ছোট থেকে বড় সবাইকে খুশি রাখতে পারে। শুধু তাই নয়, তারা রেগে গেলেও কাউকে অসম্মান করেন না। এমন একজন নারীকে বিয়ে করলে পুরুষেরও উন্নতি হয় অর্থাৎ যে নারী ছোট বড় সবাইকে সম্মান করেন তাকেই বিয়ে করা উচিৎ।
ধার্মিক: ধার্মিক নারী নিজের স্বামীর ভাগ্য পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেন। কারণ তিনি সৎ ও নীতির পথে থাকেন। তিনি কখনোই চটজলদি কোনো বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেন না।তিনি সর্বদা তার পরিবারকে অন্যায় থেকে রক্ষা করেন। যে কারণে বাড়ির লোকেদের ওপর সর্বদা ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকে।
তাই সর্বদা কেবলমাত্র ঈশ্বরে বিশ্বাসী ও ধর্ম অনুসরণকারী নারীকে বিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছেন চানক্য। চাণক্যের মতে যে মহিলার মধ্যে এই চার গুণ রয়েছে সেই মহিলার স্বামী সবচেয়ে ভাগ্যবান হয়ে থাকেন। কারণ এরকম একজন নারীকে স্ত্রী হিসেবে পাওয়া মানে জীবনের সৌভাগ্যের তরজা খুলে যাওয়া।

No comments:
Post a Comment