নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, ২৭ ডিসেম্বর: চেয়ারম্যানের চেয়ার হারিয়ে গত আড়াই বছরে পুরসভার বোর্ড মিটিং হাজির হয়েছেন মাত্র একবার। ৫৩টি মিটিং এ অনুপস্থিত থেকেছেন বারাসত পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের বারাসত সাংগঠনিক জেলার টাউন শাখার মুখপাত্র সুনীল মুখোপাধ্যায়। সম্প্রতি কয়েকজন নাগরিকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুরসভার কাছে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলা শাসকের দফতর।
গত ২০২২ সালে পুরসভা নির্বাচনের তৃতীয় বার একক সংখ্যা গরিষ্ঠ ভাবে বোর্ড দখল করে তৃণমূল। সংখ্যার নিরিখে বিরোধী দলের মর্যাদা হারায় বামফ্রন্ট। পরপর দুই বারের চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায়কে সরিয়ে বসানো হয় অশনি মুখোপাধ্যায়কে। এই বদল মেনে নিতে পারেননি সুনীল। অভিমান করে পুরসভায় আসা বন্ধ করে দেন তিনি। সূত্রের খবর, গত আড়াই বছরে বোর্ড গঠনের পর থেকে চলতি মাস পর্যন্ত পুরসভায় বোর্ড মিটিং হয়েছে ৫৪ টি। এরমধ্যে একটি মাত্র বোর্ড মিটিং ছাড়া বাকি বোর্ড মিটিংয়ে হাজির হননি বারাসত পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুনীল মুখোপাধ্যায়। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে দিনের পর দিন বোর্ড মিটিংয়ে হাজির থাকা নিয়ে বর্ষীয়ান তৃনমূল কাউন্সিলার তথা প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই পুরসভার অন্দরে চর্চা হচ্ছিল ।সম্প্রতি কয়েকজন নাগরিক উত্তর ২৪ পরগনা জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ করেন।এরপর চিঠি দিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চায় জেলা শাসকের দফতর। প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, "গতানুগতিক বোর্ড মিটিংয়ে গিয়ে কোন লাভ হয় না।এই নিয়ে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে, সেটা ডিফেন্ড করার মানসিকতাও আমার আছে।"
পরপর দুই বার বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন সুনীল মুখোপাধ্যায়।২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।সুনীল শিক্ষকতা করতেন।পুরসভা রাজনীতিতে বর্ষীয়ান সুনীলকে ২০২২ সালে টিকিট দিলেও দল তাঁকে চেয়ারম্যান করেন নি। তৃণমূল সূত্রের খবর, বর্তমান চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায় ও সুনীল পুরসভার রাজনীতিতে দুই মেরুতে থেকেছেন।তাদের মধ্যেকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব অজানা নয় বারাসতের তৃনমূল কর্মী থেকে শহরের বাসিন্দাদের কাছে।চেয়ারম্যান থেকে সরে যাওয়ার পর পুরসভা পরিচালিত বিনোদন পার্ক সিরাজ উদ্যান নিয়ে প্রাক্তন এবং বর্তমান চেয়ারম্যানের দ্বৈরথ প্রকাশ্যে এসেছিল।বর্তমানে চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তির কাছে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়েন সুনীল।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে,২০২২ সালে নির্বাচনের পর বোর্ড গঠন হয়।ওই বছরে বোর্ড মিটিং হয়েছে ১৩ টি।২০২৩ সালে বোর্ড মিটিং হয়েছে ২৭ টি।আর ২০২৪ সালে চলতি মাস পর্যন্ত বোর্ড মিটিং হয়েছে ১৪ টি। বর্তমান পুরসভার চেয়ারম্যানের দাবি ২০২৩ সালে একটি মাত্র বোর্ড মিটিংয়ে হাজির থেকেছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুনীল মুখোপাধ্যায়। গত আড়াই বছরে বাকি ৫৩ টি বোর্ড মিটিংয়ে অনুপস্থিত থেকেছেন সুনীল।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম না থাকলেও প্রথা অনুযায়ী কাউন্সিলারদের হাজির থাকতে হয় বোর্ড মিটিংয়ে।মূলত বোর্ড মিটিংয়ে পুরসভা সংক্রান্ত উন্নয়ন মূলক কাজ নিয়ে আলোচনা হয়।পুরসভা সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত বোর্ড মিটিংয়ে পাস হয়। সেই অনুযায়ী পুরসভা কাজ করে।পুরসভার কাউন্সিলার হওয়ার সুবাদে তাঁরা সন্মানিক পান।পরপর তিনটি বোর্ড মিটিংয়ে কোন কাউন্সিলার হাজির না থাকলে কারণ জানাতে হয় পুরসভার চেয়ারম্যানকে।বর্তমান চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায় বলেন," প্রাক্তন চেয়ারম্যান সেরকম কিছু জানান নি।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে জেলা শাসকের কাছে অভিযোগও জমা পড়েছে। এরপরেই জেলা শাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে জবাব তলব করলে উত্তর দিয়েছেন পুরসভা কর্তৃপক্ষ।
চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায় বলেন,"বোর্ড গঠনের পর একটি বোর্ড মিটিংয়ে ছিলেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান।এরপর থেকে কোন বোর্ড মিটিংয়ে আসেন নি তিনি।আমি প্রথম প্রথম জানতে চাইতাম।কিন্তু পরে আর এসব নিয়ে কথা হয় নি।এমনিতে সুনীল মুখোপাধ্যায় খুব অ্যাক্টিভ।ওয়ার্ডে কাজকর্ম করেন।কাজের ত্রুটি হলে সুপারিশ করেন।কিন্তু গত আড়াই বছরে কেন তিনি বোর্ড মিটিংয়ে আসেন নি,সেটা উনি ভালো বলতে পারবেন।"
প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন," আমি ওয়ার্ডে সঠিক ভাবে কাজ করি।ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের যেকোন প্রয়োজনে আমি তাদের পাশে থাকি।গতানুগতিক বোর্ড মিটিংয়ে গিয়ে কোন লাভ হয় না।আমার নিয়ম জানা আছে।আমার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিলে ডিফেন্ড করার মানসিকতাও আমার রয়েছে। কাউন্সিলার হওয়ার জন্য আর ভোটে দাঁড়াব না।তবে রাজনীতি করব।"
বামফ্রন্টের কাউন্সিলর বরুণ ভট্টাচার্য বলেন, "বহুবার বিষয়টি আমাদের পক্ষ থেকে বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি।"

No comments:
Post a Comment