বাংলা থেকে মহারাষ্ট্র, একের পর এক ধৃত অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 27 December 2024

বাংলা থেকে মহারাষ্ট্র, একের পর এক ধৃত অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি


ডেস্ক রিপোর্ট, ২৭ ডিসেম্বর: ১৭ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করল মহারাষ্ট্র পুলিশ। স্থানীয় থানার সঙ্গে রাজ্য পুলিশের সন্ত্রাস দমন শাখা মুম্বাই, নবী মুম্বাই, খানে এবং নাশিক শহরে অভিযান চালিয়ে তিন মহিলা সহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে বুধবার জানানো হয়েছে। ধৃত মহিলারা পরিচারিকা এবং পুরুষরা দিনমজুরি করতেন। ধৃতদের অধিকাংশ ঝুপড়িবাসি। অভিযোগ তারা ভুয়ো পরিচয় পত্র বানিয়ে বছর খানিক ধরে মহারাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। তবে ধৃতদের নাম বা পরিচয় সম্পর্কে কোন তথ্যই পুলিশ দেয়নি। 

গত ২২শে ডিসেম্বর মহারাষ্ট্র বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন শেষে বিধান ভবনে সংবাদমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী ফডনবিশ বলেছিলেন রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাস করা বাংলাদেশে নাগরিকদের খুঁজে বার করে সত্তর ফেরত পাঠানো হবে। ২৩ শে আগস্ট খানের ক্রিক রোড থেকে বাংলাদেশী সঙ্গে তিনজনকে ধরে পুলিশ। একজন ছিলেন থানের মুম্বাই অন্য দুজন নবী মুম্বাইয়ের তাজোলায়। বলা হয় জাল আঁধার ও প্যান কার্ড এবং নগদ ৩৩ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছে তাদের থেকে। পরের দিন ২৪ শে ডিসেম্বর ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হয় ১০। ২৫শে ডিসেম্বর ১৭ জনের গ্রেফতার এর খবর দেওয়া হয়। 

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যে বাড়তে থাকা ভারত বিরোধিতা এবং তাতে মোহাম্মদ ইউনুস এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা নিয়ে পরপর প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকার কাছে অসন্তোষ এবং আপত্তিক জায়গা গুলি স্পষ্ট করে সম্পর্ক ঠিক রেখে কূটনীতির মাপা পদক্ষেপেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা রয়েছে দিল্লি। ভারত বাংলাদেশ বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন রাজ্যে। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাদেশ অনুপ্রবেশকারীদের আটক এবং প্রত্যার্পণ এর বিষয়টি নিয়ে সরকরি স্তরে তৎপরতা বাড়ছে।

দিল্লি এবং মুম্বাই শহরে প্রচুর বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী পরিচয় পত্র জাল করে রয়েছেন বলে সড়ক হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। সম্প্রতি পরপর অভিযানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীনে দিল্লি পুলিশ এবং এনসিআর নানা জায়গায় উত্তরপ্রদেশের পুলিশকে বেশ কিছু বাংলাদেশি নাগরিককে ধরার দাবি করেছে। দিল্লিতে স্কুলে স্কুলে বাংলাদেশে পড়ুয়া চিহ্নিত করতেও নির্দেশ দিয়েছে সরকার। গত তিন মাসে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা সত্তর জনেরও বেশি বাংলাদেশে নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রবেশের প্রশ্নে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা সীমান্তরককে বাহিনীর ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে আসছেন। বিরোধী শিবির থেকে প্রশ্ন উঠছে অমিত শাহের অধীন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের ধানতলা হাঁসখালি থানার পুলিশ বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১০ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারীকে ধরেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি ধানতলার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না থাকা এলাকা দিয়ে এক নাবালিকা সহ দশ বাংলাদেশি এদেশে ঢুকেছে। অনুপ্রবেশে সাহায্য এবং স্থানীয় দত্তপুলিয়া যুগলকিশোর পঞ্চায়েতের কয়েকটি বাড়িতে তাদের লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করে দালালরা। আমতলা থানার পুলিশ দত্তপুলিয়ার কানিবাউনি থেকে এক নাবালিকা সহ সাতজনকে ধরে। ধৃতদের মধ্যে তিনজন নোয়াখালীর বাসিন্দা। বাকিদের বাড়ি মাগুরা মনিরামপুর মোড়লগঞ্জ ও যশোরে। অনুপ্রবেশের ধৃতদের ১৪ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। উত্তর ২৪ পরগনা সড়কনগরের তারালী গ্রাম থেকে বাংলাদেশের বাগেরহাটের বাসিন্দা দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad