বীরভূম জেলার স্থানীয় তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ খুনের ঘটনায় গ্ৰেফতার আরও ২ জন। এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বগটুই পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান ভাদু শেখ খুনের ঘটনায় বুধবার গভীর রাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ভাসান শেখ এবং শেখ শফিককে। মাড়গ্রাম ও নলহাটি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, ভাদু হত্যার সঙ্গে তারা সরাসরি জড়িত ছিল।
মঙ্গলবারও পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করে এই ঘটনায়। গ্রেফতার হওয়া দুজনের নাম এফআইআর-এ সঞ্জু শেখ ও শ্রেষ্ঠ শেখ। পুলিশ সন্দেহের ভিত্তিতে রাজা শেখকে আটক করেছে। অন্যদিকে, গণহত্যা মামলার তদন্তকারী সিবিআই আজ আবার স্থানীয় পুলিশ অফিসার এবং দমকল কর্মীদের তলব করেছে।
এদিকে, শেখের হত্যার পর বগটুই গ্রামে নারী ও শিশুসহ নয়জনকে হত্যার ঘটনায় রামপুরহাট থানার এক আধিকারিক, সাক্ষী ও গ্রেফতারকৃতদের জেরা করেছে সিবিআই। বৃহস্পতিবার আবারও তলব করা হয়েছে দমকলকর্মী ও স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকদের।
সিবিআই, থানার ওসি, রামপুরহাট থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর এবং একজন এএসআইকে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিবৃতি রেকর্ড করার জন্য আজ সিবিআই ক্যাম্পে তলব করেছে। তদন্তকারীরা বুধবার দুই দমকল কর্মীকে তলব করেছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ঘটনাস্থলে পৌঁছে আপনারা ঠিক কী দেখেছেন? কেউ কি আগুন লাগিয়েছে? তদন্তকারীরা সেই সব তথ্য খুঁজছেন। আজ আবারও তাদের জবানবন্দি নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার রামপুরহাট থানার আইসিকে তলব করেছিলেন সিবিআই তদন্তকারীরা। তার ভূমিকা নিয়ে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে। তিনি কি কারও ইশারায় কাজ করেছেন? এমনটাই জানতে চান তদন্তকারীরা। বগটুই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সিবিআই ভাদু শেখের অনুগামীদের এবং অগ্নিসংযোগে ৯ জনের মৃত্যুর অপরাধীদের খুঁজছে। এ ঘটনায় ভাদুর প্রতিবেশী সুজন শেখ পলাতক রয়েছে। তাকে খুঁজছে সিবিআই। পঞ্চায়েত প্রধান বাবর শেখের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় সিবিআই। তার বাড়ি থেকে ভোটার তালিকা সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। পলাতক অভিযুক্তকে খুঁজছে সিবিআই।
তদন্তকারী অফিসাররা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে কথা বলে আসামিদের খোঁজার চেষ্টা করছেন, যদিও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তকে প্রভাবিত করার অভিযোগ করেছেন।

No comments:
Post a Comment