যশোরে ২০০৫ সালের সিরিজ বোমা হামলার সঙ্গে যুক্ত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামাত নেতা সাহিরুদ্দিন মণ্ডল (সহিদুর রহমান)-কে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভারত-বাংলাদেশের সাতক্ষীরার সীমান্ত সংলগ্ন বসিরহাটের বাদুড়িয়া চৌমাথা থেকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামি জেল থেকে পালিয়ে অবৈধ ভাবে বেনাপোল হয়ে বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে বাদুড়িয়ার আটলিয়া গ্রামে এসে আশ্রয় নেয়।
বাংলাদেশের যশোর জেলার দিয়াপাড়া এলাকায় বাসিন্দা কাজি সাহিরুদ্দিন মণ্ডল, জামাতের অন্যতম সদস্য। তার বিরুদ্ধে সিরিজ বোমা বিষ্ফোরণের অভিযোগ ওঠায় যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়ে বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার জবি থমাস কে বলেন, 'সন্দেহজনক হওয়ায় জেরা করতে ওই বাংলাদেশীকে নিজেদের হেফাজাতে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।' শুক্রবার বসিরহাট আদালতে তোলা হলে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠায় বিচারক।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে খবর, প্রায় ৩৫ জন জামায়াত নেতা বিভিন্ন সময়ে এই রাজ্যে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। তারই অংশ হিসাবে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ২০০৫ সালের যশোর সিরিজ বোমা বিষ্ফোরণ মামলার পলাতক এই আসামিকে হেফাজতে নেয় জেলা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় প্রত্যক্ষ জড়িয়ে পড়ে জামাতের অন্যতম নেতা কাজি সাহিরুদ্দিন মণ্ডল। বিচারে তার যাবজ্জীবন জেল হয়। কিন্তু সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামি জেল থেকে পালিয়ে অবৈধ ভাবে বেনাপোল হয়ে বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে বাদুড়িয়ার আটলিয়া গ্রামে এসে আশ্রয় নেয়। গত ১৫ বছর হচ্ছে এখানেই গা ঢাকা দিয়ে থেকে ফিসারির কাজ নেয়। এদেশে এসে আধার এবং প্যান কার্ড বানায় কাজি সাহিরুদ্দিন মণ্ডল। তা দেখিয়ে বিভিন্ন সরকারি সুবিধার পাশাপাশি কলকাতা সহ বিভিন্ন এলাকাতে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে। শুক্রবারই কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য গোয়েন্দাদের দল বাদুড়িয়ায় আসছে ওই বাংলাদেশীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে।
যদিও সম্পূর্ণ ঘটনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, ধৃত জামাত নেতার বাংলাদেশি পরিচয় সইদুর রহমান নামে। তার বাবা-অজ্ঞাত, গ্রাম-দিয়াপাড়া, ইউনিয়ন-৫নং শ্রীধরপুর, উপজেলা-অভয়নগর, জেলা-যশোর। তবে তার কোনও পদ পদবি নেই, এটা স্থানীয়ভাবে জানা যায়। সইদুর ২০০৫ সালে সারা বাংলাদেশের পাশাপাশি যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলাধীন নওয়াপাড়া শহরস্থ বাংলাদেশ বেতারের পাশে ও চেঙ্গুটিয়া নামক স্থানে সিরিজ বোমা হামলার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তার নামে স্থানীয় থানায় দুইটি মামলা আছে মর্মে জানা যায়।
বাংলাদেশ গোয়েন্দা সূত্রে তার শেষ অবস্থান পাওয়া যায় বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। তবে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ও ভাই-বোন স্থায়ী ঠিকানায় নিজ বাড়িতে বসবাস করছেন। তার পরিবারের অন্য কারও নামে কোন মামলা নেই বলেই জানা যায়।

No comments:
Post a Comment