হাওড়া: গৃহকর্ত্রী জামাকাপড় কাচতে ব্যস্ত। সেই ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে ফাঁকা ঘরে ঢুকে গহনা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে চম্পট দিল এক মহিলা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে জগাছা থানা অন্তর্গত কামারডাঙ্গা এলাকাতে। পরিবারের দাবী, ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে বাড়িতে ঢুকে সর্বস্ব লুট করে পগাড়পার মহিলা।
পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েকদিন আগেই দাসনগর এলাকাতেও একই কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটে। সেখানেও অভিযোগ ওঠে এক মহিলা ভিখারীর বেশে কোলে বাচ্চা নিয়ে একই ভাবে লুট চালায়। কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, রবিবার লেকটাউনে ধরা পরে দুই মহিলা। তবে তারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বাড়ির গৃহকর্ত্রী নন্দরানী ভূঁইয়া অভিযোগ করে জানান, তিনি ছাদে জামাকাপড় কাচাকাচি করছিলেন। তার স্বামী মুড়ি কিনতে দোকানে বেরিয়েছিলেন। এরই পাঁচ-দশ মিনিটের মধ্যে একজন মহিলা ভিখারী বাচ্চা সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে আসে। তাকে দেখে তিনি বলেন কেন সে এখনও যায় নি। এরপর তিনি উদ্ধার করেন বাড়ির দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। তখনই তিনি মেয়ের গয়নার ব্যাগ খুঁজতে শুরু করেন। কিন্তু সেই ব্যাগ খুঁজে পান না। ভয়ে তিনি তার জামাইয়ের মোবাইলে ফোন করেন। তবে গয়নার ব্যাগ হারিয়ে গেছে সেটা জানাতে পারেন নি ভয়ে।
তিনি জানান ওই ব্যাগে তার মেয়ের হার, কানের দুল ছাড়াও তার নাতনির হাতের ব্রেসলেট ও অন্যান্য গয়না ছিল। তার মেয়ে শনিবার দিন কালী পুজোর জন্য বাপের বাড়ি এসেছিল। এদিন চলে যাওয়ার কথা, তাই ওই ব্যাগ বাইরে বের করেছিল মেয়ে। সন্ধ্যেবেলায় পুজো দেখে শ্বশুর বাড়ি চলে যাবে বলে খাটের ওপরে রেখেছিল।
তার মেয়ে কাবেরী ধারা জানান, তার পঁয়ত্রিশ বছর বয়স হল, তবে এই এলাকাতে এভাবে কখনও চুরি হয় নি। তিনি অমাবস্যার পুজোর জন্য কদমতলায় ফল কিনতে গিয়েছিলেন স্নান করে। পথে মায়ের ফোন আসে। বাড়ির সদর দরজা খুলে উপরে এসে ব্যাগ থেকে সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় চোর। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার গয়না ওই ব্যাগে ছিল, বলেই দাবী করেন তিনি।
এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। গোটা ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু করেছে জগাছা থানার পুলিশ। কলকাতা থেকে যে দুজনকে আটক করা হয়েছে তাদের বিষয়েও কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে জগাছা থানার আধিকারিকরা, বলেই পুলিশ সূত্রে খবর।

No comments:
Post a Comment