শীতলা মার জাগ্রত মূর্তির মাহাত্ম্য! - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 28 November 2022

শীতলা মার জাগ্রত মূর্তির মাহাত্ম্য!

 







 উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলার সান্দিলা শহর  আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক এবং পৌরাণিক তাৎপর্যের কারণে বিখ্যাত ।  এখানে একটি হ্রদের তীরে মা শীতলার একটি বিশাল মন্দির রয়েছে।  মন্দিরে বিদ্যমান মার পাথরের মূর্তিটি অতি প্রাচীন। বেদ মতে, মায়ের এই রূপটি হল দেবী দুর্গার বিশালাকায় চক্ষুবিশিষ্ট মূর্তি,যা শীতলা মাতা নামে পরিচিত।  মায়ের এই রূপ ঋষি শাণ্ডিল্য এবং গন্ধর্ব দ্বারা পূজো করেছিলেন।


 আঞ্চলিক লেখক সুনীল অর্কবংশী বলেন, এখানে এক বিশাল বন ছিল, যেখানে শাণ্ডিল্য ঋষি মায়ের জন্য তপস্যা করেছিলেন।  এখানে উপস্থিত বিশালাকার হ্রদটি প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো এবং মায়ের মূর্তিটি কয়েক হাজার বছরের পুরনো বলে জানা গেছে।  মায়ের দর্শন মনের শীতলতা এবং চোখে আনন্দ দেয়।  এটি কোলাহল থেকে দূরে নির্জনে নির্মিত হয়েছিল।


 শীতলা দেবী মন্দিরের পিছনে দুটি কিংবদন্তি রয়েছে।  প্রথমটি হলো, ব্রিটিশ শাসনামলে ব্রিটিশ গভর্নররা বনে শিকার করতে যেতেন।  ওই ছোট গুহায় মায়ের মূর্তির প্রথম দর্শনের পর রাতেই মা স্বপ্ন দেখান ব্রিটিশ গভর্নরকে। এরপর ব্রিটিশ গভর্নর বনে পশু-পাখি শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।


 একই সময়ে, আরেকটি ঘটনা হল, চিনহাটের বাসিন্দা দুই ভাই ব্যবসার সূত্রে সান্দিলা শহরে এসেছিলেন।  ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় মন খারাপ করে বনে আসেন।  তখন তাঁরা মায়ের মূর্তিরও দর্শন করেন।  মাকে তাঁরা অনুরোধ করেছিলেন যে ব্যবসায় লাভ হলে এই গুহাটিকে একটি বিশাল মন্দির বানিয়ে দেবেন।  এরপর ওই দুই ভাই ললতা ও শীতলা প্রসাদ সাহ একটি বিশাল মন্দির নির্মাণ করেন।


 লেকের একপাশে রয়েছে পুরুষদের ঘাট আর অন্য পাশে মহিলাদের ঘাট।  আর উত্তর দিকে গৈঘাট আছে।  এই মন্দিরটি আধ্যাত্মিক শান্তির জন্য পরিচিত। বর্তমানে মন্দিরটি পুরোহিত দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।  মন্দিরের চারপাশে রয়েছে বিশাল কদম্ব গাছ।


 দুর্গা সপ্তশতীতে শীতলা মার উল্লেখ আছে।  প্রসঙ্গত, এখানে দূর-দূরান্ত থেকে  নবরাত্রির সময় সান্দিলা ছাড়াও লখনউ, কানপুর, ফারুখাবাদ, কনৌজ, শাহজাহানপুর থেকে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন মাকে দেখতে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad