দুটি ভিন্ন দেশ! এক দেশের ভিতরে আর এক দেশ
প্রেসকার্ড নিউজ লাইফস্টাইল ডেস্ক,২৯মে : আমাদের দেশ কোনো ধর্মকেই প্রাধান্য দেয় না। তাই আমাদের দেশে জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে বাস করে। ভাষা এবং পোশাকের ভিত্তিতে, প্রতিটি রাজ্যে বিভিন্ন ধরণের লোক বাস করে। তবে মজার বিষয় হল প্রায় ৭৫০ বছর আগে থেকে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কিছু মানুষ এদেশে বসবাস করছেন। তবে প্রায় পঞ্চাশ হাজার জনসংখ্যার সিদ্দি সম্প্রদায়ের এই মানুষগুলোকে এখনো দেখতে হুবহু আফ্রিকানদের মতো লাগে। তাদের শরীরের গঠন থেকে তাদের চুল এবং গায়ের রং সম্পূর্ণ আফ্রিকান। একে দেশের মিনি আফ্রিকাও বলা হয়। এই মিনি আফ্রিকা কোথায় রয়েছে চলুন জেনে নেই-
গুজরাটের একটি গ্রাম জাম্বুর। কয়েকশ বছর ধরে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত হাজার হাজার মানুষ এই গ্রামে বসবাস করে আসছে। এটি বিশ্বব্যাপী মিনি আফ্রিকা নামে পরিচিত। এখানে বসবাসকারী সিদ্দী গোত্রের লোকেরা ইসলাম ধর্মের অনুসারী। যদিও কিছু সিদ্দী লোক হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মও অনুসরণ করতে শুরু করেছে। এই সম্প্রদায়টি মূলত আফ্রিকার বান্টু সম্প্রদায়ের অংশ যারা দক্ষিণ পূর্ব আফ্রিকায় বসবাস করে।
এদের আসার ইতিহাস খুবই মজার। কথিত আছে প্রায় ৭৫০ বছর আগে পর্তুগিজরা তাদের দাস হিসেবে এদেশে নিয়ে আসে। এছাড়া আরব থেকে দেশে বাণিজ্য করতে আসা শায়খরাও তাদের সঙ্গে এমন শত শত আফ্রিকান ক্রীতদাস নিয়ে আসতেন। এই ব্যবসায়ীরা এই ক্রীতদাসদের এদেশের রাজাদের কাছে হস্তান্তর করে এবং তখন থেকে সিদ্দি উপজাতির লোকেরা গুজরাটের এই এলাকায় বসবাস করছে।
অন্য একটি গল্পে বলা হয়েছে যে, জুনাগড়ের নবাব আফ্রিকায় গেলে তিনি সেখানকার এক আফ্রিকান মহিলার প্রেমে পড়েন এবং সেই মহিলা এদেশে এলে তিনি তার সঙ্গে ১০০ জন ক্রীতদাস নিয়ে আসেন এবং এখান থেকে সিদ্দি সম্প্রদায় এদেশে বসতি স্থাপন করে।
মিনি আফ্রিকা নামক এই গ্রামে বসবাসকারী সিদ্দি সম্প্রদায়ের লোকজন খুবই খারাপ অবস্থায় বসবাস করে। স্বাধীনতার ৭৬ বছর পরও তাদের বাড়ির কাগজপত্র তাদের নামে নেই। আজও, এই লোকেরা বেশিরভাগই মাটির ঘরে বাস করে এবং শ্রমিক হিসাবে কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। এবং তাদের ভাষা সম্পূর্ণ গুজরাটি।
কেন্দ্রীয় সরকার যদি এই জায়গাটি পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে তোলে তাহলে এই এলাকার পাশাপাশি এই সম্প্রদায়ের মানুষেরও উন্নয়ন হতে পারে। এই সম্প্রদায়ের লোকেরা কেবল গুজরাটেই নয়, কর্ণাটক এবং হায়দ্রাবাদেও দেখতে পারা যায়।

No comments:
Post a Comment