বিশ্বভারতী অপহরণ কাণ্ডে চুল ব্যবসার আন্তর্জাতিক চক্র যোগ! গ্ৰেফতার ১২, উদ্ধার পড়ুয়া
নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম, ২৪ সেপ্টেম্বর: ওড়িষ্যা থেকে উদ্ধার অপহৃত বিশ্বভারতীর ছাত্র। ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অবৈধ ব্যবসার যোগ রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে জানালেন বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। ২ টো গাড়ি সহ মোবাইলও উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া গবেষক ছাত্রকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।
২১ সেপ্টেম্বর ইন্দিরাপল্লীর ভাড়া বাড়ি থেকে মায়ানমারের বাসিন্দা বিশ্বভারতীর গবেষক ছাত্র প্যানচারা থাইকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ ওঠে, দুটি গাড়িতে করে ১২ জন এসে তাকে অপহরণ করে৷ বিশ্বভারতীর তুলনামূলক ধর্ম ও দর্শন বিভাগ থেকে বৌদ্ধ দর্শন নিয়ে গবেষণা তার। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে বীরভূম পুলিশ৷
প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ ও ফোন কল ট্র্যাক করে ওড়িষ্যা রাজ্যের তালসারির সমুদ্র সৈকতে একটি হোটেল থেকে বিদেশি ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে ৩ জন বীরভূমের দুবরাজপুরের বাসিন্দা৷ এই ৩ জনকে বোলপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। বাকি, ১ জন নানুরের বাসিন্দা ও ৮ জন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। অপহরণে ব্যবহৃত দুটি চার চাকা গাড়ি ও অপহৃত ছাত্র সহ ধৃতদের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ৷
এদিন, বোলপুর এসডিপিও অফিসে সাংবাদিক বৈঠক করেন বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, অবৈধ একটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এই চক্র৷ মোটা অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। সেই ঘটনা থেকেই অপহরণ৷ মায়ানমারের ছাত্র অপহরণে আন্তর্জাতিক লেনদেনেরও যোগ থাকতে পারে, প্রাথমিক তদন্তে এমনই তথ্য উঠে আসছে। তবে কিসের ব্যবসা সেই প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য করতে চাননি জেলা পুলিশ সুপার।
সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, মানুষের মাথার চুলের ব্যবসার বড় আন্তর্জাতিক চক্র ছিল। কোটি কোটি টাকার লেনদেন রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গেই যুক্ত ধৃতরা। বিশ্বভারতীর এই ছাত্রের এই ঘটনায় কী ভূমিকা, তার জন্য ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অপহৃত ছাত্রটি চুলের ব্যবসার সাথে যুক্ত। পূর্ব মেদিনীপুরের এক চুল ব্যবসায়ীর সাথে ব্যবসা করতেন তিনি। সেখানে ছয় কোটি টাকা লেনদেনের একটি বিষয় ছিল এবং ৫০ লাখ টাকা নিয়ে গন্ডগোল হয়। এরপরই পূর্ব মেদিনীপুরের ওই ব্যবসায়ী দুবরাজপুরের চুল ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করে ও ওই পড়ুয়াকে তারা অপহরণ করে।
এদিন বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায় বলেন, "বাকি ধৃতদের ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে তোলা হবে৷ উদ্ধার হওয়া ছাত্র সুস্থ আছে। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷ মোবাইল টাওয়ার, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৩০ ঘন্টার মধ্যে মায়ানমারের ছাত্রকে উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ। অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করেছে।"

No comments:
Post a Comment