দূষণের প্রভাব কমাতে ভাপ নেওয়া কী ঠিক? - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 27 December 2024

দূষণের প্রভাব কমাতে ভাপ নেওয়া কী ঠিক?


প্রেসকার্ড নিউজ,লাইফস্টাইল ডেস্ক,২৭ ডিসেম্বর: বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ছে।বায়ু দূষণের কারণে জলবায়ুতে দূষণ,ধূলিকণা,মাটি ও ময়লার মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে মানুষ গলাব্যথা,ব্যথা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।কিছু লোক বায়ু দূষণের শারীরিক প্রভাব কমাতে ঘরোয়া প্রতিকার গ্রহণ করেন।এই প্রতিকারগুলির মধ্যে একটি হল ভাপ (Steam) গ্রহণ করা।কিন্তু বায়ু দূষণের প্রভাব কমাতে ভাপ গ্রহণ করা কি সত্যিই ঠিক?এই প্রশ্নের উত্তর জানতে দিল্লির এমবিবিএস ডক্টর সুরিন্দর কুমারের বক্তব্য জেনে নেওয়া যাক। 

ডাঃ সুরিন্দর কুমারের মতে,স্টিমিং একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যাতে গরম জল থেকে নির্গত বাষ্প শরীর ও মুখে প্রয়োগ করা হয়।স্টিমিং স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।কিন্তু এটি দূষণের প্রভাবকে পুরোপুরি দূর করতে পারে না।তাই শরীরে বায়ু দূষণের প্রভাব কমাতে ভাপ নেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খান ও ব্যায়াম করুন।আসুন জেনে নেই স্টিমিং করার অন্যান্য উপকারিতা সম্পর্কে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের পথ পরিষ্কার করে -

যখন একজন ব্যক্তি দূষিত বাতাসে শ্বাস নেয়,তখন তার নাকে ও গলায় ময়লা জমে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।এই অবস্থায় গরম ভাপ বা গরম বাতাস নিলে শ্লেষ্মা পাতলা হয়ে যায়।এই শ্লেষ্মা মল এবং মূত্রনালীর মাধ্যমে বেরিয়ে আসে।প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য ভাপ নিলে শ্বাসতন্ত্র সঠিকভাবে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং হাঁপানির মতো রোগ প্রতিরোধ করে।

ফুসফুস পরিষ্কার করে -

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে,দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফলেও ফুসফুসে ময়লা জমে।এই ময়লা দূর করতেও স্টিমিং খুবই উপকারী।স্টিমিংয়ের মাধ্যমে বায়ু দূষণের কারণে জমে থাকা ময়লা ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে,যা ফুসফুসকে সুস্থ রাখে।

রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে সহায়ক -

বায়ু দূষণের প্রভাব শরীরের রক্ত ​​চলাচলেও প্রভাব ফেলে।এই পরিস্থিতিতে,বাষ্প শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে,যা রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে।  শরীরে রক্ত ​​সঞ্চালন ঠিক থাকলে তা রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

ত্বককে ডিটক্স করে - 

বায়ু দূষণ শুধু শরীর নয়,ত্বকেও প্রভাব ফেলে।বায়ু দূষণের কারণে ত্বকে ব্রণ,ফোঁড়া ও দাগের মতো সমস্যা দেখা যায়।  স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে,দূষণের কণা ত্বকের ছিদ্রের গভীরে বসতি স্থাপন করে।স্টিমিং ত্বকের ছিদ্র খুলতে সাহায্য করে।এর সাহায্যে ত্বক থেকে ময়লা ও টক্সিন দূর হয়।এটি ত্বককে ডিটক্সিফাই করে এবং ত্বক সম্পর্কিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

স্টিমিং করার জন্য বাজারে অনেক ধরনের মেশিন পাওয়া যায়।তবে কিছু সহজ পদক্ষেপ অবলম্বন করে আপনি ঘরোয়া পদ্ধতিতেই স্টিমিং করতে পারেন -

প্রথমে একটি বড় পাত্রে জল গরম করে ঠাণ্ডা হতে দিন যাতে বাষ্প বেশি গরম না হয়।এরপরে আপনার মাথায় একটি তোয়ালে রাখুন এবং পাত্রের কাছে বসুন।উল্লেখ্য, জল গরম, তাই ত্বকে স্পর্শ করার চেষ্টা করবেন না।এখন ধীরে ধীরে একটি গভীর শ্বাস নিন এবং ৫-১০ মিনিটের জন্য বাষ্পটির শ্বাস নিন। 

স্টিম করার পর স্বাভাবিক জল দিয়ে মুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নিন।আপনি চাইলে গরম জলে বিভিন্ন ধরনের আয়ুর্বেদিক তেল,যেমন- নিমের তেল,জোয়ান তেল এবং কর্পূর যোগ করতে পারেন।

বায়ু দূষণের প্রভাব কমাতে স্টিমিং খুবই উপকারী।এটি শ্বাসযন্ত্র,ত্বক এবং ফুসফুস পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।তবে স্টিম করার সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই জরুরি।

বি.দ্র: এই বিষয়বস্তু,পরামর্শ সহ, শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য প্রদান করে।এটা কোনওভাবেই যোগ্য চিকিৎসা মতামতের বিকল্প নয়। আরও তথ্যের জন্য সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞ বা আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।  প্রেসকার্ড নিউজ এর দায় স্বীকার করে না।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad